বোগোটা, ১৯ জানুয়ারী:
কলম্বিয়ার মধ্যাঞ্চলের জঙ্গলে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই বামপন্থী গেরিলা গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছে। রবিবার দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বলে জানিয়েছে সেনা সূত্র। সংঘর্ষটি ঘটে রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে গুয়াভিয়ারে বিভাগের এল রেতোর্নো পৌরসভার প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায়।
এই অঞ্চলটি কোকেন উৎপাদন ও পাচারের জন্য অত্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে জানা গেছে।
সামরিক সূত্র জানায়, সংঘর্ষটি হয় কলম্বিয়ার বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী (ফার্ক)-এর দুটি ভিন্ন ফ্যাকশনের মধ্যে। একটি ফ্যাকশন নেতৃত্ব দিচ্ছেন নেস্তর গ্রেগোরিও ভেরা, যিনি ‘ইভান মর্দিস্কো’ নামে পরিচিত। অপর ফ্যাকশনটির নেতা আলেকজান্ডার দিয়াজ মেন্দোজা, যার ছদ্মনাম ‘কালার্কা কর্দোবা’।
উল্লেখ্য, উভয় গোষ্ঠীই আগে তথাকথিত ‘সেন্ট্রাল জেনারেল স্টাফ’-এর অংশ ছিল। তবে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তারা আলাদা হয়ে যায়। সামরিক সূত্রের দাবি, নিহত ২৭ জনই ইভান মর্দিস্কোর গোষ্ঠীর সদস্য। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে দুই সামরিক সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে। দিয়াজের গোষ্ঠীর এক নেতা রয়টার্সকে সংঘর্ষ ও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বর্তমানে আলেকজান্ডার দিয়াজের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীটি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, ইভান মর্দিস্কোর গোষ্ঠী সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি স্থগিত হওয়ার পরও সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীই ২০১৬ সালের শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল। ওই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ১৩ হাজার ফার্ক সদস্য অস্ত্র সমর্পণ করে মূলধারার সমাজে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, কলম্বিয়ায় ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সশস্ত্র সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। মাদক পাচার ও অবৈধ খনন এই সংঘাতের প্রধান অর্থনৈতিক উৎস। প্রেসিডেন্ট পেত্রোর শান্তি উদ্যোগ বর্তমানে স্থবির অবস্থায় রয়েছে।
______

