প্রধানমন্ত্রী মোদি তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনকালকে “মহা জঙ্গলরাজ” বলে আক্রমণ করলেন, সিঙ্গুরে বিজেপি জনসভায় দাবি

সিঙ্গুর, ১৮ জানুয়ারি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনকালে রাজ্যে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে “মহা জঙ্গলরাজ” বলে কটাক্ষ করেছেন। সিঙ্গুরে বিজেপির জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে মোদি দাবি করেন, বিহারে যেখানে তারা জঙ্গলরাজ বন্ধ করেছে, সেখানে বাংলাতেও বিজেপি তৃণমূলের “মহা জঙ্গলরাজের” অবসান ঘটাবে।

সভায় মোদি বলেন, “এখানে সবাই একই উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছে, ‘আসল পরিবর্তন চাই।’ ১৫ বছরের জঙ্গলরাজের অবসান চাই। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট বিহারে জঙ্গলরাজ আটকেছে। এখন বাংলায় তৃণমূলের মহাজঙ্গলরাজের অবসান হবে। সবাই প্রস্তুত।”

প্রধানমন্ত্রী মোদি সভায় আরো বলেন, “আমার সরকার বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু তৃণমূল কি জানায় না, তারা তো সনিয়া গান্ধির সরকারের অংশ ছিল, তখন কেন এই কাজগুলি করা হয়নি?” মোদি তাঁর সরকারের বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা এবং বাংলার সংস্কৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

মোদি আরও বলেন, “বাংলায় তৃণমূলের মহা জঙ্গলরাজের অবসান এবং বিজেপির সুশাসন খুবই জরুরি। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহিলা এবং যুব সমাজকে সমাজে পরিবর্তনের মাধ্যম করেছিলেন। এখন বাংলার মা, বোন এবং যুব সমাজকে নিজেদের আওয়াজ জোরাল করতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, তৃণমূল শাসনকালে বাংলায় মহিলারা নিরাপদ নয় এবং রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা মাফিয়া ও দুর্নীতিবাজদের কব্জায় রয়েছে।

মোদি বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে “এক জেলা এক পণ্য” নীতিতে জোর দেবেন বলেও ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “হুগলি জেলার ধনেখালির শাড়ি, আলু, পেঁয়াজের মতো ফসলকে আন্তর্জাতিক স্তরে বিপণনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

প্রধানমন্ত্রী বাংলায় আইনের শাসন না থাকার অভিযোগ তোলেন এবং সিন্ডিকেট ট্যাক্স নিয়েও তৃণমূলকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “বাংলায় সিন্ডিকেট ট্যাক্সের জুলুম চলছেই। বিজেপি ক্ষমতায় এলে আমরা এই সিন্ডিকেট ট্যাক্সের জুলুম বন্ধ করব।”

সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় বিপুল সংখ্যক বিজেপি সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লাস এবং উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। মোদি তাঁর ভাষণে একবার আরও বলেন, “বাংলায় এখন পরিবর্তনের সময় এসেছে। বিজেপি বাংলায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে এবং রাজ্যের উন্নতির পথ সুগম করবে।”

এদিনের সভাটি বাংলায় বিজেপির শক্তি এবং আগামী নির্বাচনে রাজ্যে পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply