পূর্বতন সরকার আমাদের উপর ঋণের বোঝা, ১০৩২৩ সহ বিভিন্ন মামলা জনিত চাপ রেখে গেছে: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১৭ জানুয়ারি: রাজ্যের স্কুলগুলিতে পরিকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার। আর পূর্বতন সরকার আমাদের উপর ঋণের বোঝা, ১০৩২৩ সহ বিভিন্ন মামলা জনিত চাপ রেখে গেছে। আজ মোহনপুরের মধু চৌধুরী পাড়া দ্বাদশ স্কুলের নবনির্মিত স্কুল ভবনের উদ্বোধন এবং তারাপুর দ্বাদশ স্কুল, গোপালনগর দ্বাদশ স্কুল, বেরিমুড়া দ্বাদশ স্কুলের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। মধু চৌধুরী পাড়া দ্বাদশ স্কুল মাঠে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, পূর্বতন সরকারের আমলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে কোন উন্নয়ন পরিলক্ষিত হয় নি। যে কারণে আমাদের অধিক পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তারা আমাদের মাথার উপর আর্থিক সহ অনেক ঋণের বোঝা চাপিয়ে গেছেন। সেই সঙ্গে ১০৩২৩ সহ বিভিন্ন মামলা জনিত চাপ রেখে গেছে। আমাদের সরকার সকলের উন্নয়নে চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে জনজাতি গোষ্ঠীর উন্নয়নের কথা বলছেন তিনি। আর সেটা আমরাও বলছি। সারা দেশে প্রায় ৭০০ জনজাতি গোষ্ঠী রয়েছে। এরমধ্যে ত্রিপুরায় ১৯টি জনজাতি গোষ্ঠী রয়েছে। জাতি, জনজাতি, মণিপুরী, সংখ্যালঘু সহ সকল অংশের মানুষের ঐক্যবদ্ধ থাকাটাই হচ্ছে থানসা। আমাদের সকলকে একসাথে থাকতে হবে। আর এই রাজ্যকে নতুন ত্রিপুরা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত রাজ্যের জনজাতি সম্প্রদায়ের ৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে পদ্মশ্রী সম্মান দেওয়া হয়েছে। জনজাতি অংশের মহিলা দ্রৌপদী মুর্মুকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রবাদী চিন্তাধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারই জনজাতিদের উন্নয়নের কথা বলে। দেশাত্মবোধের চিন্তাভাবনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জনজাতিদের বিভ্রান্ত করা এবং বিভাজনের চেষ্টা আগেও হয়েছে, এখনো হচ্ছে। কিন্তু আমরা চাইছি সকলকে নিয়ে একসাথে থাকতে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, এই কয়েক বছরের মধ্যে রাজ্যে অনেক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই উদ্বোধন হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। জনজাতি গোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া মানুষের যত বেশি উন্নয়ন করা যাবে তত বেশি সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা হবে এবং আমাদের ভবিষ্যত নির্মাণের কারিগর হবে তারা। প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন আগামীদিনে পৃথিবী তাদের হাতের মুঠোয় থাকবে যাদের কাছে জ্ঞান থাকবে। আজ মধু চৌধুরী পাড়া দ্বাদশ স্কুল, তারাপুর দ্বাদশ স্কুল, গোপালনগর দ্বাদশ স্কুল এবং বেরিমুড়া দ্বাদশ স্কুলের উন্নয়নে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা। পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বর্তমান সরকার। এজন্য বাজেটেও আর্থিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আর্থিক সংস্থান রাখা হয়েছে। সব জায়গায় পরিকাঠামো উন্নয়নে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, শুধু পুঁথিগত শিক্ষা কিংবা বইপোকা হলে প্রকৃত শিক্ষা হয় না। খেলাধুলা সহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও ছাত্রছাত্রীদের যুক্ত থাকতে হবে। শিক্ষার কোন শেষ নেই। প্রতিদিনই শিখতে হয় আমাদের। শিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক সমস্যার সমাধান করা যায়। অজ্ঞতা থেকে জ্ঞান এবং অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসে এই শিক্ষা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগে ত্রিপুরায় একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল চারটির মতো ছিল। আমরা আসার পর ২১টি স্কুলের অনুমোদন পেয়েছে। এরমধ্যে ১২টি শুরু হয়েছে। আরও ৬টি আগামী মার্চের মধ্যে শুরু হবে। আর এগুলি সবই জনজাতি ছেলেমেয়েদের জন্য।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ, লেফুঙ্গা বিএসির চেয়ারম্যান রণবীর দেববর্মা, ভাইস চেয়ারম্যান বুধু দেববর্মা, হেজামারা বিএসির ভাইস চেয়ারম্যান নিহার রঞ্জন দেববর্মা, শিক্ষা অধিকর্তা এন সি শর্মা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।

Leave a Reply