নয়াদিল্লি, ১১ জানুয়ারি: দেশজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দিচ্ছিল কুখ্যাত অপরাধী আবিদ আলী, যিনি রাজু ও রহমত নামে পরিচিত ছিলেন। অবশেষে সুরত ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি গোপন অভিযানে তাকে সুরতের লালগেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এই গ্রেপ্তারের সময় একটিও গুলি চলেনি, যা পুলিশের কর্মকর্তাদের জন্য স্বস্তির বিষয়।
রহমত ডাকাত প্রায় ২০ বছর ধরে অপরাধের জগতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ১৪টি রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা তার আন্তঃরাজ্য অপরাধী নেটওয়ার্কের প্রধান ছিলেন। নানা রূপে সেজে অপরাধ করার জন্য তিনি বিখ্যাত ছিলেন। কখনো তিনি ভুয়া সিবিআই অফিসার হয়ে মানুষের সঙ্গে ঠকতেন, আবার কখনো সাধু বা বাওড়ির বেশ ধারণ করে লুটপাট চালাতেন।
পুলিশের মতে, রহমত ডাকাত ‘ইরানি ডেরা’ নামে একটি কুখ্যাত গ্যাংয়ের মূল পরিকল্পনাকারী। এই গ্যাংটি ভোপাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করত এবং লুটপাট, ঠকবাজি, অগ্নিসংযোগের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত ছিল। একাধিক মামলায় তার বিরুদ্ধে এমসিওসিএ এর মতো কঠোর আইন প্রয়োগ করা হয়েছিল।
রহমত ডাকাত অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত টাকায় বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন। তার শখ ছিল দামি গাড়ি, স্পোর্টস বাইক, এমনকি আরবি ঘোড়াও পালন করতেন। পুলিশ দাবি করছে, অপরাধ থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে সে এক অত্যন্ত বিলাসবহুল জীবনযাপন করত, এবং এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহের বাইরে ছিল।
তথ্য অনুযায়ী, রহমত ডাকাত সুরত শহরে নতুন শিকার খুঁজতে এসেছিল। এই সময়েই সুরত ক্রাইম ব্রাঞ্চ তার সম্পর্কে সঠিক তথ্য পায়। এরপর একটি কৌশলী জাল পাতলে তাকে আটক করা হয়। সুরত ক্রাইম ব্রাঞ্চের ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি) ভবেশ রাজিয়া জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারির পর বেশ কিছু পুরনো অপরাধের তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। রহমত ডাকাত প্রায় ১৩-১৪ বছর ধরে ভোপালের আমন নগর এলাকায় বসবাস করছিল এবং “রহমত ডাকাত” নামে তার খ্যাতি ছিল।
পুলিশ আশা করছে, রহমত ডাকাতের কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার গ্যাংয়ের অন্যান্য সদস্যদের এবং অনেক অবসিদ্ধ অপরাধের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে। এটি শুধু সুরত শহর, বরং সারা দেশের পুলিশ বাহিনীর জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
এই গ্রেপ্তারি শুধুমাত্র সুরত পুলিশ বাহিনীর জন্যই নয়, সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

