তেহরান, ১০ জানুয়ারি: ইন্টারনেট ও টেলিফোন পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েও ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের বিস্তার রোখা যাচ্ছে না। বর্তমানে দেশের ৩১টি অঙ্গরাজ্যেই বিক্ষোভে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া বার্তা দেন। শুক্রবার রাতে তিনি বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্পের হয়ে কাজ করলে কেউই নিস্তার পাবে না।”
এর আগে শুক্রবার রাতে ট্রাম্প দাবি করেন, “ইরান বড় বিপদের মুখে রয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, প্রয়োজনে ফের ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপ করা হতে পারে। এর পরই জাতির উদ্দেশে ভাষণ ও সমাজমাধ্যমে পোস্টের মাধ্যমে ট্রাম্পকে তীব্র আক্রমণ করেন খামেনেই। এক্স-এ দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, “যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সমগ্র বিশ্বকে অহংবোধের চোখে বিচার করেন, তাঁর জানা উচিত—বিশ্বের সমস্ত অত্যাচারী ও অহংকারী শাসকই ক্ষমতার শীর্ষ থেকে পতিত হয়েছে।”
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি (প্রাক্তন শাসক রেজা শাহ পাহলভির পুত্র) জনগণকে গণপ্রতিবাদে নামার ডাক দেন। তার পরপরই সরকার ইন্টারনেট ও টেলিফোন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। ইন্টারনেট স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, বিক্ষোভ দমনের প্রতিক্রিয়ায়ই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এর ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
বিক্ষোভ দমনে পুলিশের বিরুদ্ধে নির্বিচারে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। রাজধানী তেহরানে অন্তত ২০০ বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে স্থানীয় এক চিকিৎসকের সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়েছে। যদিও কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের মতে, এখনও পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৬৫। পাশাপাশি অন্তত ২৩০০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ ডিসেম্বর তেহরানে দোকানদারেরা ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন। ধীরে ধীরে সেই বিক্ষোভ দেশের অন্যান্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে আর্থিক দুরবস্থার প্রতিবাদে আন্দোলন হলেও, পরে তা ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েকশিয়ানের সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক গণবিক্ষোভে পরিণত হয়। ২০২২ সালে নারী স্বাধীনতার দাবিতে হওয়া আন্দোলনের সময় যেমন কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল, এবারও একই কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এদিকে, বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, মার্কিন সেনার সর্বাধিনায়ক হিসেবে তাঁর ক্ষমতা কেবলমাত্র তাঁর নিজস্ব নৈতিকতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অন্য দেশে সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ইরানের পরমাণুকেন্দ্রে বিমানহানা বা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের প্রসঙ্গ তুলে ক্ষমতার সীমা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, “হ্যাঁ, একটি জিনিস আছে—আমার নিজস্ব নীতি। আমার নিজস্ব মন। সেটাই একমাত্র জিনিস, যা আমাকে থামাতে পারে। আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই।”

