আগরতলা, ৬ জানুয়ারি: রাজনীতিতে বড় ভাইয়ের সঙ্গে কিভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটা জানা থাকা উচিত। এভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করে হিংসা সৃষ্টি করে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এবং জাতীয় পার্টি ভারতীয় জনতা পার্টিকে দমানো যাবে না। আর সিপিএম এখনো জাতি জনজাতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য নানাভাবে সুড়সুড়ি দেয়।
আজ ভারতীয় জনতা পার্টির ছামনু মন্ডলের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজ যারা এখানে যোগদান করতে এসেছেন তারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজ মনু রেল স্টেশনে নামার পর এই এলাকা দিয়ে আসার সময় যেভাবে রাস্তার দুধারে অগণিত মানুষ, বিশেষ করে জনজাতি অংশের ভাই বোনেরা আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন সেটা অন্তত আমার এতদিনের রাজনীতিতে দেখতে পাইনি। আমি অত্যন্ত আপ্লুত, অত্যন্ত খুশি। আমাদের যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতীয় জনতা পার্টির উপর আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে মানুষের। কিন্তু বাইরে থেকে বারবার অনেকে অনেক কিছু বলেন যে জনজাতিদের মধ্যে আমাদের কোন সংগঠন নেই। মানুষ শান্তি চায়। আর এখানে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনজাতিদের জন্য বিভিন্ন জনমুখী স্কিম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি ভারতীয় জনতা পার্টির কার্যক্রমে বিভিন্ন জায়গায় অংশগ্রহণের সময় দেখতে পাই যে কিছু পার্টির নতুন নতুন ফ্ল্যাগ লাগিয়ে উড়াচ্ছে। আমি বুঝতে পারছি তারা ধীরে ধীরে পায়ের নিচে জমি হারাচ্ছে। কোথাও জলের দাবিতে আটকানোর চেষ্টা করে, কোথাও ফ্ল্যাগ লাগিয়ে তাদের অবস্থার জানান দেয়, আবার কোথাও রাস্তার সমস্যার জন্য বা নানাভাবে আমাদের কার্যক্রম বানচালের চেষ্টা করে। টাকারজলাতেও একই ঘটনা করেছে। নানাভাবে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। ঘরে ঘরে গিয়ে হুমকি ধমকি দিয়েছে। হাতাইকতরেও একই ঘটনা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এধরণের ঘটনা করা হচ্ছে। কিন্তু যত আঘাত করবে তত প্রতিঘাত আমরা করবো। আইন মেনে আমরা প্রতিঘাত করবো। এভাবে রাজনীতি আর চলবে না ত্রিপুরায়। অনেক হয়েছে। এধরণের ভেলকি অনেক হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টির ফ্ল্যাগের সাথে পতাকা লাগিয়েছেন – ভালো। আপনারা আমাদের ছোট ভাই। তাই ছোট ভাইয়ের মতো ব্যবহার করুন। বড় ভাইয়ের সঙ্গে কিভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটা আপনাদের জানা উচিত। এভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করে মারপিট করে হিংসা সৃষ্টি করে জাতীয় পার্টি ভারতীয় জনতা পার্টিকে দমানো যাবে না। ভারতীয় জনতা পার্টি শুধু দেশে নয়, বিশ্বের মধ্যেও অন্যতম বৃহত্তম পার্টি। আর এই পার্টিকে মাঝেমধ্যে হুমকি দেওয়া হয় যে ন্যাশনাল পার্টি ও মুখ্যমন্ত্রীকে এডিসিতে ঢুকতে দেওয়া হবে না। কিন্তু যত বেশি বলা হবে তত বেশি আমরা আরো ভেতরে যাবো, প্রতিটা ঘরে যাবো।
বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আজ এই কার্যক্রমে ৭৫৫ পরিবার ভারতীয় জনতা পার্টিতে সামিল হয়েছে। আমাকে প্রথমে বলা হয়েছিল যে আজ এখানে ১,৮৬৮ জন যোগদান করবেন। সেই জায়গায় ২,৪৯৯ জন জনজাতি ভাইবোন ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করছেন। দিনের পর দিন ভারতীয় জনতা পার্টি শক্তিশালী হচ্ছে। ফ্ল্যাগ দেখিয়ে, জলের আন্দোলন করে, মিথ্যে কথা বলে জনজাতিদের অগ্রগতি রোখা যাবে না। তারা খুব সহজ সরল মানুষ। জনজাতিদের শিক্ষিত করলেই সমস্যা তাদের। কারণ বুঝে যাবে সব। এই ধরনের রাজনীতি আমরা এতদিন ধরে দেখে এসেছি। জনশিক্ষার নাম দিয়ে কমিউনিস্টরাও এধরণের আন্দোলন করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এতদিন ধরে রাজ্যের জন্য মহরাজাদের অবদানকে কোন সম্মান দেওয়া হয় নি। কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টি আসার পর মহারাজাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছে। ডাঃ সাহা বলেন, এখন এডিসিতে কি দুর্নীতি চলছে সেটা আমরা সবাই জানি। আর বলছে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার তাদের টাকা পয়সা দেয় না। ২০২৪ – ২৫ অর্থবর্ষে রাজ্য বাজেটের ৩৯.০৬% অর্থ এডিসিকে দিয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু তবু বলছে আমরা পয়সা দিই না। তাহলে এই পয়সা কোথায় গেলো? আজ এডিসি এলাকায় অনুন্নয়ন আর অনুন্নয়ন। আজ এই সভায় জনজাতিদের জনজোয়ার প্রমাণ করছে যে এডিসিতে ২৮ এ ২৮ আসন নিয়ে আসবে ভারতীয় জনতা পার্টি। ২০১৯ এ আমরা কম সংখ্যক আসন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যদি ১০টা আসন পাই, তবে আমরা ২৮টা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি সেক্ষেত্রে কি হতে পারে।
সভায় বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মানুষ শান্তিতে থাকতে চায়। ত্রিপুরায় আগে কি অবস্থা ছিল? খুন, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, নির্বাচনের আগে অগ্নিসংযোগ, নির্বাচনের পরে অগ্নিসংযোগ। ১৯৮০ সালে যে ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গা হয়েছিল সেবিষয়ে কোন রা শব্দ নেই সিপিএমের। তারা বলছে ১৯৮৪ সালের শিখ দাঙ্গার কথা। কিন্তু আমাদের ত্রিপুরায় প্রায় ৩ হাজার জাতি জনজাতি খুন হয়েছিলেন। সেবিষয়ে কোন শব্দ নেই তাদের। তারা এখনো জাতি জনজাতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য নানাভাবে সুড়সুড়ি দেয়।
এদিন এই জনসভায় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা, বিধায়ক শম্ভুলাল চাকমা, এডিসি সদস্য সঞ্জীব রিয়াং, জেলা সভাপতি পতিরাম ত্রিপুরা, ধলাই জেলা সভাধিপতি সুস্মিতা দাস, ছামনু মন্ডলের সভাপতি বিপ্লব চাকমা সহ বিজেপির বিভিন্ন স্তরের শীর্ষ নেতৃত্ব।

