গঙ্গাসাগরের মাটিতেও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করলেন মমতা: “বিজেপির আইটি সেল বেআইনি কাজ করাচ্ছে”

কলকাতা, ৬ অক্টোবর : মঙ্গলবার গঙ্গাসাগরের মাটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, “ভুলভাল করছে ইলেকশন কমিশন। বিজেপির আইটি সেলকে দিয়ে যা করানো হচ্ছে, সেটা বেআইনি। বয়স্কদের নিয়ে যাচ্ছে, নল পরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।”

এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ঘটনায় হইচই শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রাখতে আমরা আইনি পথ বেছে নেব।” তাঁর নির্দেশে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন এবং দলের সূত্রে জানা গেছে, আজ (মঙ্গলবার) এই মামলার জরুরি শুনানির আবেদন করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, “এই মামলার শুনানি আলাদা হবে কিনা, নাকি মূল মামলার সঙ্গেই যুক্ত হবে, তা আজই স্পষ্ট হবে।” এর আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রয়োজনে নাগরিক হিসেবেও শীর্ষ আদালতে কথা বলার অনুমতি চাইবেন। তিনি বলেন, “আমরা আইনের সাহায্য নিচ্ছি। এত মানুষকে যেভাবে হ্যারাস করা হয়েছে—প্রয়োজনে আমি নিজেও প্লিড করার পারমিশন চাইব।”

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়া চালানোর জন্য তাড়াহুড়া করা হচ্ছে, যার ফলে অনেক বয়স্ক নাগরিকদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর ফলস্বরূপ, রাজ্যে ৭০-৮০ জনের মৃত্যু এবং আতঙ্কে আত্মহত্যার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি সতর্ক করে বলেন, “এসআইআর হোক, কিন্তু হাতে সময় নিয়ে দু’বছর ধরে হোক। মানুষের অধিকার ভ্যানিশ করলে—আপনারাও ভ্যানিশ হয়ে যাবেন।”

এদিন গঙ্গাসাগর তীর্থ করের প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, গঙ্গাসাগর তীর্থ কর বামফ্রন্ট সরকারের আমলেই চালু ছিল, এবং তৃণমূল সরকারের সময় সেই কর তুলে দেওয়া হয়েছে। মমতা বলেন, “বামফ্রন্ট সরকারের আমলে এই কর চালু হয়েছিল, আমরা সেই কর তুলে দিয়েছি।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “বামফ্রন্টের সময় যারা গঙ্গাসাগরের তীর্থযাত্রীদের ওপর কর চাপিয়েছিল, তাদের কাছে মানুষের অধিকার কিছুই ছিল না। এখন তৃণমূল সরকার মানুষের পাশে রয়েছে, এবং আমরা সবসময় মানুষের সেবা করার জন্য প্রস্তুত।”

এদিনের বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেছিলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রাখতে তৃণমূল সরকার যেকোনো ধরনের আইনি লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করবে। তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠুতা বজায় রাখার গুরুত্বও পুনর্ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply