আগরতলা, ৬ জানুয়ারি: বিশ্রামগঞ্জে নগর পঞ্চায়েত গঠনের বিরোধিতায় সকাল ৯টা থেকে প্রাক্তন জঙ্গি নেতা রঞ্জিত দেবর্বমার নেতৃত্বে সিভিল সোসাইটি পুষ্করবাড়ি এলাকায় জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। এমনকি জরুরি পরিষেবা, এম্বুলেন্সের চলাচলও ব্যাহত হয়। এদিকে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছে জেলাশাসক ডা. সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। জেলাশাসকের দাবি, নতুন নগর সংস্থার প্রকৃত সীমারেখা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি থাকতে পারে, তবে কোনো এডিসি ভূমি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এই সমস্যা সমাধানে একটি যৌথ সীমা চিহ্নিতকরণ দল গঠন করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গতবছরের ৩১ ডিসেম্বরে সরকারে তরফ থেকে বিশ্রামগঞ্জ নগর পঞ্চায়েত নামে একটি নগর সংস্থা গঠন করা হয়েছে। এই নতুন নগর পঞ্চায়েতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত। সেগুলো হল, বিশ্রামগঞ্জ, চেসরিমাই ও বরজলা। এর পাশাপাশি ওই তারিখে ওই এলাকার সীমারেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তারপর থেকেই টিটিএডিসিতে ভূমি অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এরই প্রতিবাদে আজ সকাল থেকে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে সিভিল সোসাইটির নামে তিপরা মথার সর্মথকরা। আন্দোলনকারীদের দাবি সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে। তাই সরকারের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করুক।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল এই প্রস্তাব শুধুমাত্র রাজস্ব রেকর্ড ও বর্তমান প্রশাসনিক সীমারেখার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। কোনো এডিসি ভূমি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সীমারেখা যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এমনকি এই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও, টিটিএএডিসির-এর প্রধান নির্বাহী সদস্য পূর্ণ চন্দ্র জামাতিয়া মুখ্যমন্ত্রী (ডঃ) মানিক সাহাকে একটি চিঠি লিখে নগর পঞ্চায়েত গঠনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ওই চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, এডিসি ভূমি কাউন্সিলের সম্মতিহীনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁর এই চিঠিতেই জনসাধারণ বিভ্রান্ত হয়েছে।
এরই প্রতিবাদে আজ জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন সিভিল সোসাইটি। অবরোধের জেলে বিশ্রামগঞ্জে সাধারণ জীবন সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়। শত শত পরীক্ষার্থী আটকে পড়েছেন। অবশেষে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন ছাত্রছাত্রীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছে সিপাহীজলা জেলা শাসক ডা. সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল জয়সওয়াল সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী।
জেলাশাসক সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, নতুন ইউএলবি-এর প্রকৃত সীমারেখা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি থাকতে পারে, তবে কোনো এডিসি ভূমি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তাই সীমারেখা নিয়ে সকল দ্বিধা দূর করার জন্য বিশালগড় এসডিএম-এর নেতৃত্বে একটি যৌথ সীমা চিহ্নিতকরণ দল গঠন করা হয়েছে। এতে বিশালগড় ও বিশ্রামগঞ্জের সরকারি কর্মকর্তারা, নগর পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরা, টিটিএএডিসি এবং স্থানীয় কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। দল মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে সকল অস্পষ্টতা নিরসন করবে।
তাই জেলা প্রশাসন অবরোধকারীদের দায়িত্বশীলভাবে সমাধানে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে। ওই আহ্বানের ভিত্তিতে অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।

