কারাকাস, ৪ জানুয়ারী : শনিবার ভোরে মার্কিন বিমান হামলায় ভেনেজুয়েলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সামরিক কর্মী এবং সাধারণ নাগরিক উভয়ই রয়েছেন। এই হামলার পর, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়েছে। মার্কিন বাহিনী, গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় এবং মাদক পাচার রোধ করতে এই অভিযান পরিচালনা করে।
ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, দেশটির শাসক দল মাদক পাচার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলা এবং বিপুল তেল সম্পদের অপব্যবহার করছে। এর ফলে, ভেনেজুয়েলার ওপর ব্যাপক মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল এবং মাদুরো সরকার আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়ে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ভেনেজুয়েলার সরকারকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়। এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল মাদক পাচার বন্ধ করা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের নিরাপত্তা বজায় রাখা। তবে, সমালোচকরা বলছেন, এই অভিযানের ফলে অঞ্চলটিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।
এই হামলার এক দিন পর, ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়। আদালতের রায়ে বলা হয়, “মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ডেলসি রদ্রিগেজ দেশের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা এবং জাতির সার্বিক প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করবেন।”
ডেলসি এলোইনা রদ্রিগেজ গোমেস (জন্ম: ১৮ মে ১৯৬৯) ভেনেজুয়েলার একজন বিশিষ্ট আইনজীবী, কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদ। ২০১৮ সাল থেকে তিনি ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি হুগো চাভেজ এবং নিকোলাস মাদুরোর শাসনামলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের পদে ছিলেন।
রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলার শাসক দল ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টি অব ভেনেজুয়েলার জাতীয় নেতৃত্বের সদস্য। তবে, তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক সংকটে ভূমিকার অভিযোগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি, মার্কিন বিমান হামলায় মাদুরো আটক হওয়ার পর ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে, তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রদ্রিগেজ রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে উপস্থিত হয়ে দাবি করেছেন, “মাদুরোই ভেনেজুয়েলার একমাত্র প্রেসিডেন্ট।”
মার্কিন হামলার পর, রাশিয়া, ইরান, ব্রাজিল, চিন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যসহ একাধিক দেশ এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। ভেনেজুয়েলা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে।
এদিকে, মাদুরোর গ্রেফতার ও রদ্রিগেজের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, তবে দেশের ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।

