নয়াদিল্লি, ৪ জানুয়ারী : ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মেক্সিকো, কলম্বিয়া এবং কিউবাকে সতর্ক করে দিয়েছেন। মাদক সন্ত্রাস এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে তাঁর দেশের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “এই দেশগুলোর পরিস্থিতি ভেনেজুয়েলার মতো হতে পারে।” পাশাপাশি, তিনি নিশ্চিত করেছেন যে মাদক সন্ত্রাস রুখতে প্রয়োজনে আমেরিকা যা করতে হবে, তা পিছপা হয়ে করবেন না।
শনিবার রাতে ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম “ট্রুথ সোশ্যালে” এক পোস্টে জানান, “ভেনেজুয়েলাকে বহুবার সতর্ক করা হয়েছিল মাদক সন্ত্রাস নিয়ে, কিন্তু তারা তা উপেক্ষা করেছে। তাই মাদক সন্ত্রাস রুখতে আমেরিকার পক্ষ থেকে বড় পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল।” মাদুরোর গ্রেফতারের পর পরই ট্রাম্প মেক্সিকো, কলম্বিয়া এবং কিউবাকে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “মাদক সন্ত্রাস প্রতিরোধে যদি আমেরিকার পা ওই অঞ্চলে রাখতে হয়, তবে সেটিও করতে প্রস্তুত আমেরিকা।”
ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার সামরিক অভিযানে মেক্সিকোসহ অন্যান্য দেশগুলির মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। বিশেষ করে মেক্সিকো প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবম পার্ডো এবং ট্রাম্পের সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। শরণার্থী সমস্যা এবং মাদক চোরাচালানকে কেন্দ্র করে দু’দেশের মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। ট্রাম্প মেক্সিকোকে বারবার সতর্ক করেছেন, তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এই সামরিক অভিযানে নিন্দা জানিয়েছেন।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোকে ‘মাদক সম্রাট’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “পেট্রো মাদক তৈরির কারখানা চালাচ্ছেন, যা আমেরিকার প্রতি এক বড় বিপদ।” তিনি আরও বলেন, “কলম্বিয়ায় তৈরি মাদক আমেরিকায় পাচার হচ্ছে, এবং এবার পেট্রোকেও শিক্ষা দিতে হবে।”
কিউবাকে নিয়ে ট্রাম্প তার বক্তব্যে বলেন, “কিউবার পরিস্থিতি এখন দুর্ভাগ্যজনক। সেখানে প্রশাসনিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে এবং কিউবার জনগণ এর জন্য দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিউবার জনগণকে এই ‘ব্যর্থ শাসক’ থেকে মুক্তি দিতে হবে।”
শুক্রবার মধ্যরাতে (স্থানীয় সময়) আমেরিকা ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান শুরু করে। কারাকাস শহরে পর পর সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল। হামলা হয়েছে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন প্রদেশেও, যেমন মিরান্ডা এবং আরাগুয়া। হামলার পিছনে কে বা কারা ছিল, তা স্পষ্ট হয়নি। তবে, সম্ভাব্য মার্কিন হানার বিষয়ে যখন আলোচনা হচ্ছিল, তখন ট্রাম্প এক টুইট পোস্টে জানান, “আমেরিকা ভেনেজুয়েলা এবং তার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে সফলভাবে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে। মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে বন্দি করা হয়েছে।”
ভেনেজুয়েলার উপর আমেরিকার হামলা এবং মাদুরোকে গ্রেফতারের পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চিন, রাশিয়া এবং ইরান এই সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করার অভিযোগ তুলেছে। এই ঘটনায় লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
2026-01-04

