ওড়িশার অবৈধ পাথর খনিতে বিস্ফোরণ, নিহত ২; ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকার আশঙ্কা একাধিক শ্রমিকের

ডেনকানাল, ৪ জানুয়ারি : ওড়িশার ডেনকানাল জেলার একটি অবৈধ পাথর খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত দু’জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনিবার গভীর রাতে ডেনকানাল শহরের অন্তর্গত গোপালপুর গ্রামের কাছে এই বিস্ফোরণ ঘটে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

বিস্ফোরণের খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে। ঘটনাস্থলের দৃশ্যে দেখা যায়, খনির ভিতরে বিশাল পাথরের চাঁই ভেঙে পড়েছে এবং চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ। প্রথমে সহকর্মী শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধারের চেষ্টা করলেও পরে উদ্ধারকাজের দায়িত্ব নেয় প্রশাসন।

আহত বেশ কয়েকজন শ্রমিককে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে মোট হতাহতের সংখ্যা এখনও যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। বিস্ফোরণের সময় খনিতে কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন, তা স্পষ্ট না হওয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে সমস্যায় পড়ছে উদ্ধারকারী দল।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিস্ফোরণের পর খনির ভিতরে মাটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে, যার ফলে শ্রমিকদের চাপা পড়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।

সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ডেনকানাল জেলার খনন দপ্তর গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর (২০২৫) ওই খনির লিজধারককে বাধ্যতামূলক বিস্ফোরণ অনুমোদন না থাকায় কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও নিয়ম ভেঙে সেখানে বিস্ফোরণের কাজ চলছিল বলে অভিযোগ। খনিটির লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল কি না, তা নিয়েও স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে, যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ মেলেনি।

ঘটনাস্থলে সাতটি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। এক অগ্নিনির্বাপণ আধিকারিক জানান, “খনির ভিতরে বিশাল পাথরের টুকরো পড়ে রয়েছে। এগুলি হাতে সরানো সম্ভব নয়, তাই ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে। ডগ স্কোয়াডও ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।”

উদ্ধারকাজ এখনও চলছে এবং ভারী যন্ত্র ও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দলের সহায়তায় অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

Leave a Reply