নয়াদিল্লি, ৪ জানুয়ারী : ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করেছে আমেরিকার বাহিনী। শনিবার রাতে এই ঘটনা ঘটে, যার পরেই চিনের পক্ষ থেকে দুটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। দ্বিতীয় বিবৃতি রবিবার সকালে প্রকাশ করা হয়, যেখানে অবিলম্বে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। চিনের বিদেশ মন্ত্রক আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এই অপহরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, “ভেনেজুয়েলার সরকারের পতন ঘটানোর চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।”
চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রবিবার বলেন, “আমেরিকা জোর করে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীরকে ভেনেজুয়েলা থেকে বের করে নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ভেঙেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সাধারণ নীতির সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমরা উদ্বিগ্ন। আমেরিকা অবিলম্বে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক এবং তাদের মুক্তি দিক। ভেনেজুয়েলার সরকার ভেঙে দেওয়া চলবে না, সমস্যাগুলোর সমাধান আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমে করতে হবে।”
এদিকে, শনিবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ এবং প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর অপহরণের বিষয়টি ঘোষণা করেন। এক রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার রাতেই শোয়ার ঘর থেকে সস্ত্রীক মাদুরোকে তুলে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাঁদের প্রথমে একটি মার্কিন জাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে সেখান থেকে সরাসরি নিউ ইয়র্কে পাঠানো হয়। রবিবার সকালে (ভারতীয় সময়) ব্রুকলিনের ডিটেনশন ক্যাম্পে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। হোয়াইট হাউস থেকে ওই সময়ের একটি ফুটেজও প্রকাশ করা হয়েছে।
বন্দি হওয়ার পর মাদুরো তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “গুড নাইট। হ্যাপি নিউ ইয়ার।”
প্রথমেই মাদুরোর অপহরণের ঘটনার পর চিনের বিদেশ মন্ত্রক আমেরিকার এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। “একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন শক্তিপ্রয়োগ একেবারেই অগ্রহণযোগ্য,” বলেছিল বেজিং। বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, “আমেরিকার আধিপত্যবাদ আন্তর্জাতিক আইন, ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের নিরাপত্তার প্রতি স্পষ্ট লঙ্ঘন। চিন এই কার্যক্রমের কঠোর বিরোধিতা করছে এবং আমেরিকাকে আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছে।”
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা ও বিশ্বরাজনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
2026-01-04

