ইন্ডিগোর মহাবিপর্যয়: এক দিনে প্রায় ৫০০ ফ্লাইট বাতিল; শীতকালীন সূচি কাটছাঁট করছে কেন্দ্র

নয়াদিল্লি, ৯ ডিসেম্বর : দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বিমানসংস্থা ইন্ডিগোর ব্যাপক অপারেশনাল বিঘ্নের জেরে মঙ্গলবারও প্রায় ৫০০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যেখানে দিল্লি (১৫২) ও বেঙ্গালুরু (১২১) সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। চেন্নাই, হায়দরাবাদ, মুম্বই, লখনউ ও আহমেদাবাদেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় উড়ানমন্ত্রী কে রাম মোহন নাইডু ঘোষণা করেছেন যে ইন্ডিগোর শীতকালীন ফ্লাইট সূচি কাটছাঁট করা হবে এবং সেই স্লট অন্য এয়ারলাইনগুলিকে বরাদ্দ দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ইন্ডিগো জানিয়েছে যে তারা অপারেশনাল স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে এবং ডিসেম্বর ১৫ পর্যন্ত বাতিল হওয়া বুকিংয়ের জন্য মোট ৮২৭ কোটি টাকা রিফান্ড দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১ থেকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে ৫,৮৬,৭০৫টি পিএনআর বাতিল ও রিফান্ড করা হয়েছে, যার পরিমাণ ৫৬৯.৬৫ কোটি টাকা।

সংকটের প্রয়োজনে উড়ান মন্ত্রণালয় আজ রাজীব ভবনে উচ্চস্তরের পর্যালোচনা বৈঠক ডেকেছে, যেখানে ইন্ডিগোর যাত্রী বোঝাই হার, কাস্টমার কেয়ার, রিফান্ড প্রক্রিয়া এবং পূর্ণ সক্ষমতায় অপারেশন পুনরুদ্ধারের রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হবে। একইসঙ্গে ভাড়া নিয়ন্ত্রণনীতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং অন্যান্য এয়ারলাইনের উদ্বেগও বিবেচনা করা হবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে মন্ত্রণালয় বিভিন্ন বিমানবন্দরে ১০ জন কর্মকর্তাকে মোতায়েন করেছে, যারা আগামী ২–৩ দিন সরাসরি তদারকি করবেন।

এদিকে, ডিজিসিএ’র উচ্চ পর্যায়ের কমিটি ইন্ডিগোর সিইও পিটার এলবার্সসহ শীর্ষ কর্তাদের বুধবার হাজিরা দিতে বলেছে। সংস্থাটি শো-কজ নোটিশের জবাবে যাত্রীদের অসুবিধার জন্য গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছে এবং জানিয়েছে যে একাধিক কারণের মিলিত প্রভাবে এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তারা রুট–কজ বিশ্লেষণের জন্য আরও সময় চেয়েছে। ইন্ডিগোর দাবি, ডিসেম্বরের প্রথম সাত দিনে ৯,৫০০টির বেশি হোটেল রুম ও প্রায় ১০,০০০ ক্যাব–বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে; ৪,৫০০টির বেশি হারানো লাগেজও যাত্রীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ইন্ডিগো বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে এক জনস্বার্থ মামলা বুধবার দিল্লি হাই কোর্টে শুনানিতে উঠবে। মামলাযে দাবি করা হয়েছে, বিমানবন্দরে আটকে থাকা যাত্রীদের অবিলম্বে মৌলিক সুবিধা দেওয়া, ঘটনায় স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত, রিপোর্ট প্রকাশ এবং ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে সংস্থার পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা এবং কেন্দ্রের তদারকির ওপর।
______