নয়াদিল্লি, ৯ ডিসেম্বর : লোকসভায় আজ নির্বাচন সংস্কারকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনার সূচনা করেন কংগ্রেস সাংসদ মনিষ তিওয়ারি। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন রাজ্যে কার্যকর হওয়া ভোটার তালিকার এস.আই.আর. —এর কারণ নির্বাচন কমিশনকে সংসদের সামনে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।
মনিষ তিওয়ারির অভিযোগ, এসআইআর চালু করার জন্য কমিশনের কোনও সংবিধানিক বা আইনি ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, এ ধরনের পুনঃপর্যালোচনার বিধান সংবিধানে নেই; এটি কেবল কমিশনকে প্রদান করা একটি অতিরিক্ত ক্ষমতা। তিনি আরও প্রস্তাব দেন, দেশে হয় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভিভিপ্যাটের পূর্ণ গণনা করা হোক, অথবা আবার ব্যালট পেপার ব্যবহারে ফিরে যাওয়া উচিত। এছাড়া নির্বাচন কমিশনারদের নির্বাচনী কমিটিতে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা এবং ভারতের প্রধান বিচারপতিকে যুক্ত করার প্রস্তাবও দেন তিনি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিজেপি সাংসদ সঞ্জয় জয়সওয়াল অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক বিহার নির্বাচনে বিরোধীদের বড় পরাজয়ের পরে জনমানসের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরাতে এসআইআর ইস্যু উত্থাপন করা হচ্ছে। তিনি ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা এবং ১৯৮৭ সালের কাশ্মীর নির্বাচন পর্যন্ত “ভোট চুরির” অভিযোগে কংগ্রেসের দিকে আঙুল তোলেন।
সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব বলেন, নির্বাচন কমিশন সত্যিকারের নিরপেক্ষ হলে তবেই প্রকৃত নির্বাচন সংস্কার সম্ভব। তিনি জার্মানি ও আমেরিকার উদাহরণ টেনে দাবি করেন, প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত এসব দেশেও যখন কাগজে ভোট হয়, তখন ভারত ইভিএমের ওপর এত নির্ভরশীল কেন?
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, এসআইআর-এর অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে দেশে বেশ কয়েকজন ব্লক-স্তরের কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন।
জেডিইউ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন ললন সিং বলেন, এসআইআর একটি সঠিক পদক্ষেপ এবং ভারত বিশ্বকে দেখিয়েছে কীভাবে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালিত হয়। তিনি বিরোধীদের সমালোচনা করে বলেন— জিতলে ইভিএম ঠিক, হারলেই তা “ত্রুটিপূর্ণ” বলে দাবি করা হয়।
শিবসেনা (ইউবিটি)-র সাংসদ অনিল দেশাই বলেন, দলবদল আইন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না এবং ইভিএমের বদলে ব্যালট পেপার প্রয়োগ করা উচিত। এ সময় এনসিপি–শরদ পওয়ার নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে নির্বাচনী সহিংসতা ও দুর্নীতির বিষয়টি তুলে ধরেন।
আরজেডি সাংসদ অভয় কুমার সিন্হা বিহার নির্বাচনের পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ভিভিপ্যাট স্লিপের স্বাধীন অডিট করার দাবি জানান।

