News Flash

  • Home
  • বিদেশ
  • বাংলাদেশের জামাত নেতা পুত্রের বিতর্কিত মন্তব্য: “ভারত ভেঙে না পড়লে শান্তি আসবে না”
Image

বাংলাদেশের জামাত নেতা পুত্রের বিতর্কিত মন্তব্য: “ভারত ভেঙে না পড়লে শান্তি আসবে না”

ঢাকা, ৩ ডিসেম্বর : বাংলাদেশের সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আজমি, জামাত-ই-ইসলামি দলের প্রাক্তন প্রধান গোলাম আজমের পুত্র, একটি উসকানিমূলক মন্তব্য করে ভারতসহ বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “যতক্ষণ না ভারত ভেঙে টুকরো টুকরো হয়, ততক্ষণ বাংলাদেশে সম্পূর্ণ শান্তি আসবে না।” তাঁর এই মন্তব্য বাংলাদেশের জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি অনলাইন আলোচনা সভায় করা হয়।

আজমি দাবি করেছেন, ভারতের সরকার সবসময় বাংলাদেশের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি রাখতে কাজ করছে। তিনি বলেন, “ভারত কখনোই শান্তি চায়নি, বরং দেশের মধ্যে অশান্তি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করেছে।” তিনি আরও বলেন, “১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাকস অঞ্চলে ভারতের ভূমিকা ছিল স্পষ্ট। ভারত সেখানে শান্তিবাহিনীকে আশ্রয়, অস্ত্র এবং প্রশিক্ষণ সরবরাহ করেছিল, যার ফলে বহু রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল।”

আজমি ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাকস শান্তি চুক্তি সইয়ের সমালোচনা করে বলেন, “শান্তিবাহিনীর অস্ত্র সমর্পণ ছিল শুধু শো। প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়নি।” শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে একটি দীর্ঘকালীন সশস্ত্র সংগ্রামের অবসান ঘটে।

আজমি, যিনি বাংলাদেশে একটি বিতর্কিত চরিত্র, প্রায়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারত সম্পর্কে সমালোচনা করেন এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করেন। তার এই মন্তব্য এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন ভারত ও বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে, বিশেষ করে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর।

আজমির মন্তব্যের পর, ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা কর্নেল মায়াঙ্ক চৌবে বলেন, “এটি কোনো একক মন্তব্য নয়, বরং একটি ‘মাইন্ডসেট’। ভারতকে এখন আরও সতর্ক থাকতে হবে। এই ধরনের মন্তব্যগুলো প্রকাশ্যে কেনাবেচা না হলেও অনেকদিন ধরে বাংলাদেশে কিছু শক্তি ভারতকে ভেঙে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে।”

এদিকে, বাংলাদেশে আগামী বছর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভারতের নজর থাকবে জামাত-ই-ইসলামির কার্যকলাপের ওপর, যেটি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-র এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগে অনেকদিন ধরেই বিতর্কিত। জামাত, যেটি একসময় শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে নিষিদ্ধ ছিল, এখন মওলানা মুহাম্মদ ইউনুসের শাসনামলে আবারও রাজনীতির মঞ্চে ফিরে এসেছে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জামাতের ছাত্র সংগঠন নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় দলটির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আজমির মন্তব্যের মাধ্যমে ভারতকে ভাঙতে চাওয়ার দাবি শুধু ভুল, বরং এটি ঐতিহাসিক বাস্তবতা অস্বীকার করার এক পদক্ষেপ, যা রাজনীতির কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি একদিকে যেমন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকার অবমূল্যায়ন, তেমনি দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তির জন্য এক বিপজ্জনক চিন্তা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের ভূমিকা ছিল অমূল্য। ভারতই ছিল সেই দেশ, যার কারণেই বাংলাদেশ স্বাধীন হতে পেরেছিল।

বাংলাদেশের জন্য প্রকৃত শান্তি কখনোই আসবে না যদি প্রতিবেশী দেশের অখণ্ডতা ধ্বংসের স্বপ্ন দেখে। বরং, শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সম্মানের মাধ্যমে, যেখানে একে অপরের ইতিহাসকে সম্মান জানানো হবে।

Releated Posts

উন্নত কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সম্পর্ক জোরদার করল ভারত ও মরিশাস

পোর্ট লুইস/নয়াদিল্লি, ১০ এপ্রিল(আইএএনএস): মরিশাস সফরে গিয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে ভারতের…

ByByTaniya Chakraborty Apr 10, 2026

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মুক্তি পেলেন নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কাঠমান্ডু, ১০ এপ্রিল(আইএএনএস): কেপি শর্মা অলি এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক-কে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় হেফাজত থেকে মুক্তি…

ByByTaniya Chakraborty Apr 10, 2026

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলের অর্থনীতিতে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে: এডিবি

ম্যানিলা, ১০ এপ্রিল(আইএএনএস): মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বেড়েছে এবং এর ফলে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয়…

ByByTaniya Chakraborty Apr 10, 2026

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সংকটের আশঙ্কা: সরকারের পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ আওয়ামী লীগের

ঢাকা, ১০ এপ্রিল(আইএএনএস): বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল আওয়ামী লীগ। দলটি অভিযোগ করেছে, শাসক…

ByByNews Desk Apr 10, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top