নয়াদিল্লি, ৩০ নভেম্বর – প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবিবার মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১২৮তম পর্বে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ভারতের জেন-জেড প্রজন্মই বিকশিত ভারতের অন্যতম বড় শক্তি। তিনি উল্লেখ করেন, “দৃঢ় সংকল্প, দলগত কাজ ও ব্যর্থতার পর উঠে দাঁড়ানোর সাহস – এই তিনটি গুণ কঠিন পরিস্থিতিতেও সাফল্য এনে দেয়।”
প্রধানমন্ত্রী ভারতের মহাকাশ গবেষণায় অগ্রগতির বিশেষ প্রশংসা করেন এবং পুনে-এর একদল তরুণ উদ্ভাবকের উদ্যোগকে তুলে ধরেন। ওই দলটি ইসরো আয়োজিত এমন এক ড্রোন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় যা মঙ্গল গ্রহের পরিস্থিতি অনুকরণ করে তৈরি করা হয়েছিল। প্রতিযোগিতায় ড্রোন চালাতে হয় জিপিএস ছাড়া, কারণ মঙ্গলে জিপিএস সিগন্যাল পাওয়া যায় না। ফলে ড্রোনকে নিজের অনবোর্ড ক্যামেরা ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে নেভিগেট করতে হয়।
মোদী জানান, ড্রোনগুলো বারবার ভেঙে পড়েছিল, কারণ সেগুলিকে নিজে থেকেই মাটির নকশা শনাক্ত করা, উচ্চতা পরিমাপ করা এবং বাধা এড়িয়ে চলা—সবকিছুই করতে হয়। একাধিক ব্যর্থতার পরও পুনে-র দলটি মঙ্গল-সদৃশ পরিবেশে কিছু সময় ড্রোনটিকে সফলভাবে আকাশে ভাসিয়ে রাখতে সক্ষম হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তাদের অদম্য প্রচেষ্টা ভারতের যুবসমাজের জেদ ও মনের জোরের প্রতিফলন।”
চন্দ্রযান-২ মিশনের ব্যর্থতার প্রসঙ্গও টেনে আনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ব্যর্থতার পর বিজ্ঞানীরা সঙ্গে সঙ্গে নতুন উদ্যমে চন্দ্রযান-৩ অভিযানের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং তার সাফল্য ভারতের আত্মবিশ্বাসকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
মোদী বলেন, “আজকের তরুণ বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের মধ্যেই আমি সেই একই উদ্যম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি দেখতে পাই। তাদের নিষ্ঠাই ভারতের উন্নয়নের অন্যতম চালিকা শক্তি।”

