নয়াদিল্লি, ২৮ নভেম্বর : পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার প্রেক্ষিতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি নিরাপত্তা বাহিনীকে চূড়ান্ত সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মৃত্যুসংক্রান্ত গুজবকে কেন্দ্র করে দেশটিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি।
পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলের বাইরে হাজার হাজার সমর্থক জড়ো হয়ে ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি জানাচ্ছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনী খানের মৃত্যুর গুজব উড়িয়ে দিয়েছে এবং সমর্থকদের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়নি।
গোয়েন্দা ব্যুরোর কিছু কর্মকর্তার দাবি, তিন দিন আগে থেকেই ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব ছড়াতে শুরু করে, যার পর থেকে সমর্থকদের ভিড় বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে দৃষ্টি সরাতে আইএসআই ভারতের অভ্যন্তরে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা করতে পারে—এমন তথ্য তাদের কাছে এসেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই হামলা ২৬/১১ মুম্বাই আতঙ্ক বা পুলওয়ামা-সদৃশ হতে পারে।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, বাংলাদেশে লস্কর-ই-তৈয়বা ও হুজি-র সঙ্গে যুক্ত কিছু মডিউলের তৎপরতা বাড়ছে। এমনকি পাকিস্তান হাফিজ সাঈদকে বাংলাদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বলে দাবি করা হচ্ছে, যাতে সম্ভাব্য বড় হামলার আগে জঙ্গি মডিউলগুলিকে উসকানি দেওয়া যায়।
সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রতি জনঅসন্তোষ বাড়ছে, বিশেষত ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ—ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করে শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে ‘পুতুল সরকার’ বসানো হয়েছে। এ কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
সেনাবাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে সময় কিনতে চাইছে এবং সেই উদ্দেশ্যেই ভারতের বিরুদ্ধে বড়সড় হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে গোয়েন্দা মহলের আশঙ্কা। জম্মু-কাশ্মীর ও পাঞ্জাব সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। পূর্ব সীমান্তেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে, কারণ বাংলাদেশে আইএসআই-সংযুক্ত তৎপরতা বাড়ছে বলে গোয়েন্দা ইনপুট পাওয়া গেছে।



















