ইম্ফল, ২২ নভেম্বর: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবত দাবি করেছেন, “হিন্দু না থাকলে পৃথিবী টিকে থাকবে না।” মণিপুর সফরকালে এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, হিন্দু সমাজই বিশ্বের অস্তিত্ব রক্ষার মূল কেন্দ্র এবং এই সভ্যতা “অমর”।
ভাগবত বলেন,“বিশ্বের প্রতিটি জাতি নানা পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। ইউনান (গ্রীস), মিসর (ইজিপ্ট) ও রোম—সব সভ্যতা পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে। আমাদের সভ্যতায় কিছু আছে বলেই আমরা এখনও টিকে আছি।”
তিনি জানান, মণিপুরে এটি তাঁর প্রথম সফর, যা রাজ্যে সাম্প্রতিক জাতিগত অস্থিরতার পর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর বক্তব্যে হিন্দু সমাজকে “বিশ্বের ধর্মরক্ষক” হিসেবে তুলে ধরা হয়।
ভাগবতের ভাষায়,“ভারত এক অমর সভ্যতার নাম… সমাজে আমরা এমন একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছি যার ফলে হিন্দু সমাজ সর্বদা থাকবে। হিন্দু যদি না থাকে, তবে দুনিয়া থাকবে না।”
তিনি আরও দাবি করেন, ভারতের সকল মানুষ—হিন্দু, মুসলিম বা খ্রিস্টান—একই পূর্বপুরুষের বংশধর।
আরএসএস প্রধান বলেন, দেশের শক্তি বাড়াতে হলে প্রথম শর্ত অর্থনৈতিক ক্ষমতা।
ভাগবতের বক্তব্য,“জাতি গঠনের সময় শক্তি প্রয়োজন। শক্তি মানে অর্থনৈতিক সামর্থ্য। আমাদের অর্থনীতি সম্পূর্ণ স্বনির্ভর হতে হবে। কারও ওপর নির্ভরশীল হওয়া চলবে না।”
এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় রপ্তানিপণ্যের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপ করায় কেন্দ্র পুনরায় ‘স্বদেশি’ নীতিকে জোরালো করছে।
ভাগবত বলেন,“নকশালবাদ শেষ হয়েছে কারণ সমাজ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল — আর সহ্য করা হবে না।”
তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে বলেন,“ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে সূর্য অস্ত যেত না। কিন্তু ভারতে তাদের সূর্য ডোবা শুরু হয়ে গিয়েছিল। আমরা ৯০ বছর লড়েছি। কখনও কণ্ঠ ক্ষীণ হয়েছে, কখনও শক্তিশালী — কিন্তু কখনও নিঃশব্দ হতে দিইনি।”

