অসম বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনী শুরু

গুয়াহাটি, ১৮ নভেম্বর : অসম নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনী প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই রাজ্যব্যাপী প্রক্রিয়া লক্ষ্য করছে, যাতে যোগ্য প্রত্যেক ভোটার সঠিকভাবে ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকে।

সাধারণ সংশোধনী থেকে আলাদা এই বিশেষ সংশোধনীর আওতায়, ব্যাপক মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হবে। বুথ স্তরের কর্মকর্তারা প্রতিটি জেলায় গৃহভিত্তিক পরিদর্শন শুরু করেছে, যাতে ভোটারের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করা এবং যেকোনো প্রয়োজনীয় সংশোধন করা যায়।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিএলও প্রতিটি ভোটারকে জীবিত এবং নিবন্ধিত ঠিকানায় বসবাসরত কিনা তা যাচাই করবেন। যারা মৃত, তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা হবে এবং স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম সংশোধন করা হবে। যদি কোনো নাগরিক অসমের বাইরে অন্য কোনো রাজ্যে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত থাকেন, তবে বিএলও ফর্ম ৮ এর মাধ্যমে অসমের ভোটার তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে সহায়তা করবে।

যারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হয়েছে, তাদেরও ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য ফর্ম ৮ পূরণ করতে হবে। একবার স্থানান্তরিত হলে, তাদের পূর্ববর্তী ঠিকানায় নাম মুছে ফেলা হবে।

প্রাথমিক যাচাইয়ের সময় যদি কোনো যোগ্য ভোটার পাওয়া না যায়, তবে বিএলও তাদের বাড়ি পরিদর্শন করতে তিনবার পর্যন্ত আসবে। এর পর, সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করার পর খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে।

ভোটারদের চাপ কমাতে, নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, কোনো বুথে ১,২০০ এর বেশি ভোটার থাকবে না। এর ফলে, প্রায় ১,৮২৬টি নতুন ভোটকেন্দ্র তৈরি করতে হবে, যা জেলার স্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

ব্লিওদের মাঠ পর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার পরেও, নাগরিকরা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোটার তালিকায় তাদের নাম সংশোধন বা যুক্ত করতে পারবেন। নির্বাচন তারিখ ঘোষণা হওয়ার পূর্বে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ভোটারদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

খসড়া তালিকা প্রকাশের পর, ভোটাররা ১৫ দিনের মধ্যে তাদের বিস্তারিত সম্পর্কে অভিযোগ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে পারবেন। যদি কোনো অভিযোগের সমাধান না হয়, তবে সেটি প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার কাজকে বাড়ানো যেতে পারে।

অসম নির্বাচন বিভাগের পক্ষ থেকে ৬১,৫৫৩ জন বুথ স্তরের কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে, যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মনোনীত হয়েছে, এই ব্যাপক যাচাই-বাছাই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।