১০৩২৩ শিক্ষকদের সমস্যার সমাধানে মুখ্যমন্ত্রী আগ্রহী, বাধা দিচ্ছে শিক্ষা দপ্তর: অভিযোগ

আগরতলা, ১৭ নভেম্বর:
১০৩২৩ চাকুরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সমস্যা সমাধানে মুখ্যমন্ত্রী নিজে উদ্যোগী হলেও শিক্ষা দপ্তরের কিছু আধিকারিক সেই প্রয়াসে বাধা দিচ্ছেন—আজ আগরতলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই গুরুতর অভিযোগ তুললেন ১০৩২৩ চাকুরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতিনিধিরা।

সাংবাদিক সম্মেলনে নারায়ণ সূত্রধর মামলা পরিচালনকারী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রী ও বিধায়করা বারবার আশ্বাস দিলেও শিক্ষা দপ্তরের কয়েকজন আধিকারিক পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য আদালতে উপস্থাপন করে সমস্যার স্থায়ী সমাধানকে বাধাগ্রস্ত করছেন।
প্রতিনিধিদের বক্তব্য— “আমরা প্রকাশ্য অন্যায়ের শিকার। গোটা রাজ্যের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলের নিরক্ষর মানুষও আমাদের প্রতি হওয়া অন্যায়ের নিন্দা করছেন। তবুও আমরা লড়াই ছাড়িনি এবং হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি সকল চাকুরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের।”

তারা জানান, আদালতের রায় একাধিকবার শিক্ষকদের পক্ষে না গেলেও তার এই অর্থে নয় যে শিক্ষকরা অন্যায় মেনে নিয়েছেন।হয়তো আদালতকে সঠিকভাবে বিষয়টি বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা, এমনটাই দাবি তাদের।

সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ তোলা হয়, মুখ্যমন্ত্রী সমস্যার বিকল্প সমাধান খুঁজছেন, অথচ শিক্ষা দপ্তর আদালতে ভুল তথ্য পেশ করে চতুরতার সঙ্গে গোটা প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করছে। প্রতিনিধিরা দাবি করেন, তারা ইতিমধ্যেই শিক্ষা দপ্তরের যাবতীয় জালিয়াতির প্রমাণ সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করেছেন এবং আরও নতুন তথ্যও শিগগির আদালতে জমা দেওয়া হবে। এতদিন তাদের হয়ে শিক্ষা দপ্তরই মামলা লড়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে দপ্তর সম্পূর্ণ বিপরীত ভূমিকা নিচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের। কিন্তু এবারের তথ্য প্রমাণে আদালতের রায় তাদের পক্ষেই আসবে বলে দাবি তাদের।

এই সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদনও জানানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য, রাজ্যের সব স্তরের মানুষ, রাজনৈতিক দল, এমনকি সরকারপক্ষ ও বিরোধীপক্ষও স্বীকার করছেন যে ১০৩২৩ শিক্ষকদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, তাই তারা আশা করছেন উচ্চতর আদালত এবার যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।