হ্যারিকেন মেলিসার তাণ্ডবে বিপর্যস্ত ক্যারিবিয়ান: মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে

ওয়াশিংটন, ৩১ অক্টোবর: ভয়াবহ হ্যারিকেন মেলিসা-র তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের একাধিক দেশ। প্রবল বেগে বয়ে যাওয়া এই ঝড় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে অন্তত তিন দেশের ৩০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মেলিসা, আটলান্টিক মহাসাগরে রেকর্ডকৃত সবচেয়ে শক্তিশালী হারিকেনগুলির মধ্যে একটি, মঙ্গলবার জ্যামাইকার উপকূলে ক্যাটেগরি–৫ মাত্রায় আঘাত হানে। এরপর দুর্বল হয়ে তা কিউবা ও বাহামা অতিক্রম করে বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ বারমুডার দিকে অগ্রসর হয়, বলে জানিয়েছে মার্কিন ন্যাশনাল হ্যারিকেন সেন্টার।

এনএইচসি এক বিবৃতিতে সতর্ক করে জানিয়েছে, হ্যারিকেন দুর্বল হলেও ক্যারিবিয়ানের বিভিন্ন দ্বীপে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস অব্যাহত থাকবে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলির মধ্যে রয়েছে জ্যামাইকা, কিউবা ও হাইতি, যেখানে প্রবল বৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস ও ঝোড়ো বাতাসে ঘরবাড়ি ধ্বংস, গাছ উপড়ে পড়া এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

উদ্ধার অভিযান জারি: স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বহু এলাকায় রাস্তা বন্ধ, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত থাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জ্যামাইকার দক্ষিণাঞ্চলীয় সেন্ট এলিজাবেথ এলাকায় বন্যার জলে ভেসে উঠে আসে চারটি মৃতদেহ।

জ্যামাইকার স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ডেসমন্ড ম্যাকেঞ্জি বলেন, সেন্ট এলিজাবেথ অঞ্চলে তিনজন পুরুষ ও এক মহিলার দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁরা হ্যারিকেন সৃষ্ট বন্যায় ভেসে গিয়েছিলেন।

বুধবার রাতে জ্যামাইকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুনরায় চালু হওয়ার পর থেকেই ত্রাণবাহী বিমান সেখানে পৌঁছাতে শুরু করেছে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ জল ও চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সহায়তা: হ্যারিকেন ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির পর আন্তর্জাতিক মহল থেকেও সাহায্যের হাত বাড়ানো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, হারিকেন মেলিসার ধ্বংসযজ্ঞে বিপর্যস্ত কিউবার জনগণের পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আমরা সরাসরি ও স্থানীয় সংস্থাগুলির মাধ্যমে মানবিক সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত।