বাংলাদেশে ইসকন নিষিদ্ধের দাবি, বড় শহরগুলোতে প্রতিবাদ সমাবেশ

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর : বাংলাদেশে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনসায়নেস (ইসকন)-কে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে। ইসলামপন্থী সংগঠনগুলির অভিযোগ, ইসকন একটি ‘চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন’ এবং তাদের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইসকনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি তোলা হয়।

মহম্মদ ইউনূস সরকারের অধীনে, বিশেষত ২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও নিপীড়নের ঘটনা বেড়ে গেছে। এমনকি ইসকন কেন্দ্রগুলিতেও হামলার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর, ইসকনের প্রাক্তন সদস্য কৃষ্ণ দাস প্রভু কারাবরণ করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিন ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সমাবেশে ‘ইন্তিফাদা বাংলাদেশ’ সংগঠন ইসকনের উপর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানায়। তারা এই ধর্মীয় সংগঠনের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানায়।

এ প্রসঙ্গে, ভারতবিরোধী সন্ত্রাসী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) প্রধান জসিমুদ্দিন রহমানি দাবি করেছেন, “ইসকন কোনো হিন্দু সংগঠন নয়, এটি ইহুদিদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি চরমপন্থী সংগঠন।” তার এই বক্তব্য ঢাকার বাংলা দৈনিক দেশ রূপান্তর-এ প্রকাশিত হয়েছে। রহমানি আরও বলেন, “তারা একের পর এক অপরাধ করছে। ইসকনকে নিষিদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি।”

এছাড়া, ইন্তিফাদা বাংলাদেশের সদস্য আহমেদ রফিক বলেন, “যখন একজন ইমাম ইসকনের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তখন তাকে অপহরণ করা হয় এবং শিকল দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। অথচ রাষ্ট্র এসব অপরাধীদের বিচার থেকে অবজ্ঞা করে।” তিনি আরও বলেন, “কর্তৃপক্ষ পশ্চিম, আমেরিকা, বামপন্থী বা বিদেশি দূতাবাস কী বলবে তা নিয়ে বেশি চিন্তিত, কিন্তু আল্লাহ কী বলবেন, সে দিকে তাদের নজর নেই।”

চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেটে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর অনুষ্ঠিত সমাবেশে হেফাজতে ইসলামসহ অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলোও ইসকনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানায়।

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইসকন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।