আগরতলা, ২৫ অক্টোবর : পুলিশের উচিত স্বমহিমায় ফেরা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করা। তা নাহলে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ইস্যুতে বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হবে প্রদেশ কংগ্রেস। আজ কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে এমনটাই হুশিয়ারী দিয়েছেন বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ।
বৈঠকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা জানান, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমশই অবনতির দিকে যাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আগামী দুই মাসব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে কংগ্রেস। তিনি আরও বলেন, রাজ্যে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য লিগ্যাল সেলের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মন, তিনি এদিন রাজ্য পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। সম্প্রতি ত্রিপুরা সিভিল সোসাইটির ডাকে আহূত ধর্মঘট চলাকালীন সরকারি কর্মীদের ওপর হামলা এবং বিলোনিয়ায় এক পুলিশ আধিকারিককে শারীরিকভাবে নিগ্রহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সুদীপ রায় বর্মন বলেন, আজকের দিনে পুলিশ যেন এক দ্বিচারী চরিত্রে অবতীর্ণ হয়েছে। স্কুলের বাচ্চাদের কাছে তারা সিংহ, বিরোধী দলের কর্মীদের সামনে সিংহ, কিন্তু শাসক দলের সামনে তারা মেকুরে পরিণত হয়। যখনই সাধারণ মানুষের আন্দোলন বা বিরোধী দলের কর্মসূচি থাকে, তখন তারা কঠোর হয়। কিন্তু শাসক দলের কর্মসূচি হলে একই পুলিশ নির্বিকার থাকে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের উচিত স্বমহিমায় ফেরা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করা।
এদিনের বৈঠকে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব রাজ্যে বেড়ে চলা প্রশাসনিক পক্ষপাতদুষ্টতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের সংকোচনের বিরুদ্ধে সরব হন। তারা অভিযোগ করেন, পুলিশ প্রশাসনকে শাসক দল তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে, যা সংবিধান ও গণতন্ত্রের পরিপন্থী।
এছাড়াও, কংগ্রেস বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার নাগরিকত্ব ইস্যু প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন সুদীপ রায় বর্মন। তিনি বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ পুলিশি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। জনগণের জানা দরকার, একজন নির্বাচিত প্রতিনিধির নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে কীভাবে।
আজ অর্ধশতাধিক আইনজীবী শাসক দল ত্যাগ করে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের লিগ্যাল সেলে। বৈঠকে যোগদানকারী আইনজীবীরা জানান, তারা ভবিষ্যতে রাজ্যের বিভিন্ন জনস্বার্থ সংক্রান্ত মামলায় সক্রিয়ভাবে আইনি লড়াই চালাবেন এবং কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জনগণের পাশে থাকবেন।
প্রদেশ কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আরও আইনজীবী শীঘ্রই দলে যোগ দিতে পারেন। কংগ্রেস নেতৃত্বের মতে, এই পদক্ষেপে সংগঠন নতুন প্রাণ পাবে এবং আইনি ক্ষেত্রেও বিরোধী শক্তি আরও মজবুত হবে।

