আগরতলা, ২২ অক্টোবর : আরএসএস ও বিজেপি পরিচালিত মোদি-শাহ সরকারের বিরুদ্ধে একদলীয় স্বৈরতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে প্রদেশ কংগ্রেস। গোটা দেশে পরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে হিন্দুত্ববাদী উচ্চবর্ণীয় মনুবাদী শাসনব্যবস্থা কায়েমের দিকে এগোচ্ছে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার। আজ কংগ্রেসের তরফ থেকে বিবৃতি জারি করে এমনটাই অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী।
তাঁর কথায়, নির্বাচন কমিশনকে কবজা করে ভোটাধিকার হরণের চেষ্টা মোদি সরকার নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা ধ্বংস করে তার উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছে। কমিশনের শীর্ষ পদে নিয়োগ করা হয়েছে দলপন্থী ও আনুগত্যপূর্ণ ব্যক্তিদের, যাঁরা মোদি-শাহের নির্দেশেই কাজ করছেন। এরফলে দেশের সাম্প্রতিক লোকসভা ও বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক ভোটচুরির মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রেখেছে বিজেপি।
এই প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, রাজ্যে শুরু হওয়া এসআইআর- এর নাম করে পরিকল্পিতভাবে বিরোধী ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও নির্বাচন কমিশন দাবি করছে, বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে এসআইআর করা হচ্ছে, তবে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে আগত মুসলিম ব্যতীত অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এই ঘোষণার সঙ্গে এসআইআর কার্যক্রমের লক্ষ্য সাংঘর্ষিক বলেই কংগ্রেসের অভিমত।
তাঁর অভিযোগ, ২০০৫ সালে চালু হওয়া আরটিআই আইন যার মাধ্যমে বহু দুর্নীতি ও অন্যায় ফাঁস হয়েছিল—তাকে ধ্বংস করে মোদি সরকার ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট চালু করেছে। এই আইনের আড়ালে শাসক দলের নেতাদের ও তাদের সম্পদের উপর নজরদারি থেকে রেহাই দেওয়াই আসল উদ্দেশ্য বলে কংগ্রেসের বক্তব্য।
প্রশাসনিক সংস্থাগুলোর দলীয়করণ ও বিরোধীদের দমন ইডি, সিবিআই, আইটি, ভিজিল্যান্সের মতো সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক অভিযান চালানো হচ্ছে। কংগ্রেস দাবি করেছে, শাসক দলের অভ্যন্তরে বিক্ষুব্ধ নেতাদেরও এসব সংস্থার ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। বিচার ব্যবস্থার একাংশকেও সরকার দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

