গুয়াহাটি, ১৮ অক্টোবর : আসামের জনপ্রিয় গায়ক ও সুরকার যুবিন গার্গের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বক্সা জেলার জেল চত্বরে ঘটে যাওয়া হিংসাত্মক ঘটনার জেরে এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বক্সার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ উজ্জ্বল প্রতীম বৰুৱা শনিবার জানিয়েছেন, আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন পলাতক হলেও শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা হবে।
গত বুধবার, গার্গের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচজনকে গুয়াহাটি আদালতের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে বক্সা জেলে আনা হলে স্থানীয়দের একাংশ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্তদের বহনকারী গাড়িতে পাথর ছোঁড়ে এবং কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সংঘর্ষে একাধিক পুলিশ ও সংবাদমাধ্যম কর্মী আহত হন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে।
সহিংসতার জেরে বক্সা জেল সংলগ্ন মুশালপুর শহর ও আশপাশের এলাকায় বিএনএসএস-এর ১৬৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। জেলার ইন্টারনেট ও মোবাইল ডেটা পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় শুক্রবার তা পুনরায় চালু করা হয়েছে। বর্তমানে বক্সা জেলের আশেপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
যুবিন গার্গের মৃত্যুর ঘটনায় যারা বর্তমানে বক্সা জেলে রয়েছেন, তারা হলেন— এনইআইএফ -এর প্রধান সংগঠক শ্যামকানু মহান্ত, গার্গের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, তাঁর ভাই ও পুলিশ অফিসার সন্দিপন গার্গ এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নন্দেশ্বর বরা ও প্রবিন বৈশ্য। একই মামলায় গার্গের ব্যান্ড সদস্য শেখরজ্যোতি গোস্বামী ও অমৃতপ্রভা মহান্তকে কামরূপ (মেট্রো) সিজেএম আদালত শুক্রবার বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে এবং তাঁদের হাফলং জেলার জেলে স্থানান্তর করা হয়েছে।
গার্গ গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে এক সমুদ্রস্নানের সময় প্রাণ হারান। তিনি সেখানে চতুর্থ নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে ক্রমাগত বিতর্ক ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে, যার তদন্ত করছে আসাম পুলিশের সিআইডি-এর একটি ১০ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, প্রকৃত দোষীদের শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে এবং কেউ রেহাই পাবে না।

