তেলিয়ামুড়ায় শর্মিষ্ঠা মোদক হত্যাকাণ্ডে স্বামীর স্বীকারোক্তি, পরিকল্পিত খুনে স্তব্ধ শহর

তেলিয়ামুড়া, ৮ অক্টোবর : যা ছিল আশঙ্কা, তা-ই পরিণত হলো নির্মম সত্যে। তেলিয়ামুড়া থানাধীন মেলাপাথর এলাকায় বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া গৃহবধূ শর্মিষ্ঠা মোদকের হত্যাকাণ্ডে দ্বিতীয় স্বামী গোপাল মোদক নিজেই দায় স্বীকার করেছেন, এবং সরোজমিনে দেখিয়েছেন কিভাবে পরিকল্পনা করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সম্পাদন করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে বাড়ির ভেতর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন। খবর পেয়ে তেলিয়ামুড়া থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ও ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি বস্তার মধ্যে ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে, যা পরে শনাক্ত করা হয় ৩৬ বছর বয়সী শর্মিষ্ঠা মোদকের দেহ হিসেবে।

এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, শর্মিষ্ঠার প্রথম বিয়ে হয়েছিল কাঞ্চনপুরের বাসিন্দা গৌতম বণিকের সঙ্গে, যা পরবর্তীতে বিচ্ছেদে গড়ায়। এরপর তিনি গোপাল মোদকের সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ওই বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের সন্দেহ ছিল পারিবারিক কলহ ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে। তবে গোপাল মোদক নিজেই পুলিশের সামনে হত্যার দায় স্বীকার করে, এবং ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে দেখান কীভাবে পরিকল্পনা করে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল।

ফরেনসিক টিম ইতিমধ্যেই রক্তের দাগ, কাপড়ের টুকরো, আঙুলের ছাপ সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শারীরিক নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা হত্যার তত্ত্বকে আরও জোরালো করে। এই ঘটনার পর তেলিয়ামুড়া মহকুমা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গোপাল মোদককে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, এবং তদন্তের ভিত্তিতে চার্জশিট প্রস্তুত করা হবে। এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে ত্রিপুরা জুড়ে নারীর নিরাপত্তা ও পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।