গুইমারায় ধর্ষণকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে গুলিবর্ষণ, নিহত ৩

চট্টগ্রাম, ২৮ সেপ্টেম্বর : খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার রামেসু বাজার এলাকায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে চলমান অবরোধকে কেন্দ্র করে আজ ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় গুলিবর্ষণে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি আহসান হাবিব পালাশ। তিনি জানান, নিহতদের মরদেহ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাবেরও মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, তিনজনকে মৃত অবস্থায় সদর হাসপাতালে আনা হয় এবং চারজন আহত অবস্থায় ভর্তি আছেন। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে জুম্মা ছাত্র জনতার অবরোধ চলাকালে গুইমারার রামেসু বাজারে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে বাজারের একাধিক দোকান ও পাশের কয়েকটি ঘরবাড়ি পুড়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, বেশিরভাগ দোকান মালিকই ছিলেন পাহাড়ি আদিবাসী সম্প্রদায়ের। ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে সকালে অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলির শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এতে অন্তত ছয়জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী মংসাজাই মারমা ও কংজারী মারমা অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধে অংশ নিচ্ছিলেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে গুলি চালায়। এতে আতঙ্কে মানুষ ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে ২০-২৫ জনের একটি মুখোশধারী দল এসে বাজারে লুটপাট চালায় এবং দোকানসহ বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলেও আগুন দেওয়া হয়।

গুইমারা থানার ওসি মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী জানান, পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে গুইমারার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুষ্কৃতকারীদের হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন এবং ত্রয়োদশ সেনা সদস্যসহ এক মেজর, তিনজন পুলিশ সদস্য ও আরও অনেকে আহত হয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সবার প্রতি শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে টিউশনি শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন। পরদিন ভুক্তভোগীর বাবা অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ শয়ন শীল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। আদালত তাকে ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে।

আজ অবরোধের তৃতীয় দিনে খাগড়াছড়ি জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দূরপাল্লার ও স্থানীয় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। শহরের দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও সারাদিন বন্ধ থাকে। শাপলা চত্বরসহ পুরো শহর ফাঁকা পড়ে থাকে, রাস্তায় কেবলমাত্র নিরাপত্তা বাহিনীর টহল চোখে পড়ে।