নবরাত্রিতে মোদী সরকারের উপহার: নেক্সটজেন জিএসটি সংস্কার চালু, ৩৭৫+ পণ্যে কর হ্রাস

নয়াদিল্লি, ২২ সেপ্টেম্বর — দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস ও দেশীয় শিল্পকে উৎসাহ দিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সোমবার থেকে চালু করলো পণ্যমূল্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটির বৃহৎ সংস্কার। নতুন নেক্সটজেন জিএসটি ব্যবস্থার আওতায় এখন থেকে অধিকাংশ পণ্য ও পরিষেবা মাত্র দুটি কর হারে — ৫% এবং ১৮% — শুল্কযুক্ত হবে। বিলাসবহুল ও দোষণীয় পণ্যের জন্য ৪০% হারে জিএসটি বজায় থাকবে।

৩৭৫-রও বেশি পণ্যের উপর জিএসটি হ্রাসের এই সিদ্ধান্তকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বর্ণনা করেছেন ‘দ্বৈত উৎসব’ হিসেবে। নবরাত্রির সূচনার দিনে ইটানগরে এক জনসভায় তিনি বলেন, “আজ থেকে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য শুরু হলো জিএসটি বাচত উৎসব । নেক্সটজেন জিএসটি সংস্কারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র ও নব-মধ্যবিত্ত শ্রেণি, দ্বিগুণ সুবিধা পাচ্ছেন।”

নতুন কাঠামোয়, খাদ্যশস্য, ওষুধ, ও দৈনন্দিন ব্যবহারের বহু সামগ্রী ৫% করের আওতায় থাকছে। ইউএইচটি দুধ, প্যাকেটবন্দি পনির, ভারতীয় রুটি জাতীয় পণ্যের উপর জিএসটি এখন একেবারে শূন্য। ঘরোয়া ব্যবহারের পণ্য যেমন সাবান, শ্যাম্পু, টুথব্রাশ, টুথপেস্ট, সাইকেল ইত্যাদির উপর জিএসটি কমিয়ে ৫% করা হয়েছে।

এদিকে, কেন্দ্রীয় রেল ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব রাজধানীর বাজারে দোকানদারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংস্কারের প্রচারে অংশ নেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “নবরাত্রির শুভক্ষণে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে প্রতিটি পরিবার সাশ্রয়ের সুবিধা পাবে। প্রায় ৯৯% দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্র এখন কম দামে পাওয়া যাবে। প্রধানমন্ত্রী মোদীজিকে ধন্যবাদ জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “বাঁচত মহোৎসব শুরু হয়ে গেছে। ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা— দুজনেই খুশি। এখন আমাদের উচিত, দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো ও প্রতিদিনের জীবনে স্বদেশী দ্রব্য গ্রহণ করা।”

নতুন কর কাঠামোর ফলে ঘি, মাখন, পনির, কফি, স্ন্যাকস, জ্যাম, কেচাপ, শুষ্ক ফল এবং আইসক্রিমের উপর জিএসটি হ্রাস পেয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ উৎসবের মরসুমে আর্থিক স্বস্তি দেবে শহর ও আধা-শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলিকে।

এদিকে, কয়লা মন্ত্রক জানিয়েছে, ৫৬তম জিএসটি কাউন্সিল বৈঠকে কয়লা খাতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি ঐতিহাসিক। এখন থেকে কয়লার উপর ৪০০ প্রতি টনের জিএসটি ক্ষতিপূরণ সেস তুলে দেওয়া হয়েছে, যদিও জিএসটি হার ৫% থেকে বেড়ে ১৮% করা হয়েছে।

এই সংস্কারের ফলে কয়লা গ্রেড G6 থেকে G17 পর্যন্ত করভার ১৩.৪০ থেকে ৩২৯.৬১ পর্যন্ত কমবে। বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের জন্য এই ছাড়ের ফলে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ১৭-১৮ পয়সা উৎপাদন খরচ কমবে।

মন্ত্রক আরও জানায়, আগে সেসের ফলে নিম্ন মানের কয়লার উপর কর অনেক বেশি হয়ে যেত, যেখানে G2 কয়লার উপর ৩৫.৬৪% কর থাকলেও G11 কয়লার উপর ৬৫.৮৫% কর পড়তো। এখন করহার সমানভাবে ৩৯.৮১% হওয়ায় সাম্য ফিরে এসেছে এবং দেশীয় কয়লার প্রতিযোগিতামূলকতা বেড়েছে।

জিএসটি সংস্কার ‘ইনভার্টেড ডিউটি স্ট্রাকচার’ সমস্যাও মেটাবে, যেখানে ইনপুট সার্ভিসের উপর বেশি কর থাকায় কর সঞ্চয় আটকে থাকত। এখন কর সমতা ফেরায় কয়লা সংস্থাগুলি ওই সঞ্চয় ব্যবহার করতে পারবে, যা তাদের তরলতা বাড়াবে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

নেক্সটজেন জিএসটি সংস্কার শুধুমাত্র কর কাঠামোর সরলীকরণ নয়, এটি দেশের প্রতিটি পরিবার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক, নারী, যুব ও শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য একটি আর্থিক সহায়ক এবং স্বনির্ভর ভারত গঠনের একটি দৃঢ় পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেমন বলেছেন, “স্বদেশী গ্রহণই আমাদের উন্নয়নের পথ। ‘গর্ব সে কহো ইয়ে স্বদেশী হ্যায়’ হোক প্রতিটি দোকানের অঙ্গীকার।”

দেশজুড়ে এই সংস্কার ঘিরে স্বস্তির হাওয়া বইছে, আর উৎসবের মরসুমে দেশের সাধারণ মানুষের মুখে ফুটে উঠেছে হাসি।