মণিপুরে অতর্কিত হামলা: অসম রাইফেলসের দুই জওয়ান শহিদ, বন্যা ত্রাণে নিয়োজিত ইউনিটকে টার্গেট

ইম্ফল | ২০ সেপ্টেম্বর : মণিপুরের নামবোল এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি ভয়াবহ অতর্কিত হামলায় অসম রাইফেলসের দুই জওয়ান শহিদ হয়েছেন এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় অসম রাইফেলসের একটি গাড়ি বহর এনএইচ-2 দিয়ে নামবোল সাবল লেইকাই এলাকার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। হামলাটি ঘটে সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে, একটি ডি-নোটিফাইড জোন বা এএফএসপিএ-র আওতার বাইরে থাকা এলাকায়।

সূত্র অনুযায়ী, হামলায় একজন জুনিয়র কমিশনড অফিসার এবং এক জওয়ান ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। আহত পাঁচজনকে দ্রুত ইম্ফলের রিমস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি।

তদন্তে যুক্ত এক সূত্র জানিয়েছে, এই হামলার পেছনে পিপলস লিবারেশন আর্মি -র হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, কারণ এই হামলা সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা দিবসের ঠিক কিছুদিন আগেই ঘটেছে।

বিশেষ তথ্য অনুযায়ী, যেই ইউনিটের উপর হামলা হয়েছে, তারা গত কয়েকদিন ধরে বন্যা-ত্রাণে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। শুধুমাত্র গত দুই দিনেই ওই ইউনিট জলবন্দি এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ জল ও ওষুধ সরবরাহ করেছে। শুক্রবার সকালেও ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বাহিনী মাঠে নেমেছিল। অন্তত ৫০টি পরিবারকে চাল, ডাল, তেল ও লবণ সহ রেশন কিট বিতরণ করা হয়, যা দুর্গত মানুষদের কাছে ত্রাণ হিসেবে আশার আলো নিয়ে আসে। শুধু তাই নয়, ওই ইউনিট সম্প্রতি একটি স্থানীয় জুডো প্রতিযোগিতার আয়োজনও করেছিল, যা স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে।

হামলার পর শুক্রবার রাতেই মণিপুরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং আহত জওয়ানদের দেখতে রিমস হাসপাতালে যান। তিনি তাঁদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং বলেন, “এই কাপুরুষোচিত হামলা রাজ্যের শান্তি বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”

বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো অসম রাইফেলসের মানবিক ভূমিকার মধ্যেই এক নির্মম আক্রমণে প্রমাণ হল, নিরাপত্তা বাহিনী শুধু সীমান্ত নয়, নাগরিক জীবনের দুর্দিনেও ফ্রন্টলাইনে থাকে। এই হামলার দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি তুলেছে বিভিন্ন মহল।