News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • শান্তির পথেই বিকাশের চাবিকাঠি, সেই পথেই হাঠুন, মণিপুরে দাঁড়িয়ে সমস্ত সংগঠন ও গোষ্ঠীকে অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর
Image

শান্তির পথেই বিকাশের চাবিকাঠি, সেই পথেই হাঠুন, মণিপুরে দাঁড়িয়ে সমস্ত সংগঠন ও গোষ্ঠীকে অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর

চুরাচাঁদপুর (মণিপুর), ১৩ সেপ্টেম্বর : মণিপুরে চলমান জাতিগত সহিংসতার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার রাজ্যের চুরাচাঁদপুরে প্রথমবারের মতো সফরে এসে শান্তির বার্তা দিলেন। তিনি সমস্ত সংগঠন ও গোষ্ঠীকে শান্তির পথ বেছে নিতে অনুরোধ করেছেন। তাঁর সাফ কথা, শান্তি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। মণিপুরের ভবিষ্যৎ গড়তে সবাইকে শান্তির পথ বেছে নিতে হবে। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, পর্বত ও উপত্যকায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আলোচনা কেন্দ্র সরকারের উদ্যোগে, সম্মান ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই করা হয়েছে। মোদি বলেন, আমি সমস্ত সংগঠন ও গোষ্ঠীকে অনুরোধ করছি, আপনাদের স্বপ্নপূরণের একমাত্র পথ শান্তি। আপনার সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য, রাজ্যের স্থায়ীত্বের জন্য, শান্তি আবশ্যক। আমি আপনাদের পাশে আছি, ভারত সরকার আপনাদের পাশে আছে।

২০২৩ সাল থেকে সহিংসতায় যারা গৃহহীন হয়েছেন, তাদের পুনর্বাসনের জন্য ৭,০০০ বাড়ি নির্মাণে সহায়তা করছে কেন্দ্র সরকার বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। চুরাচাঁদপুরে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের শিলান্যাস করে মোদি বলেন, এই রাজ্যের পাহাড় শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিদর্শন নয়, এখানকার মানুষের অদম্য শ্রমের প্রতিচ্ছবি। আমি মণিপুরের মানুষের অদম্য মনোবলকে সেলাম জানাই। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে শুরু হওয়া জাতিগত সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ২৬০ জনেরও বেশি নিহত এবং প্রায় ৫০,০০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। শনিবার প্রধানমন্ত্রী প্রথমবার মণিপুর সফরে এসে এই সহিংসতার শিকার পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করেন। তিনি শরণার্থী শিবিরে থাকা শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের কাছ থেকে একটি চিত্র এবং পুষ্পস্তবক গ্রহণ করেন। এক শিশুর দেওয়া ঐতিহ্যবাহী পালকযুক্ত টুপিও পরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী চুরাচাঁদপুরে প্রায় ৭,৩০০ কোটির টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। এর মধ্যে রয়েছে, মণিপুর আরবান রোডস, ড্রেনেজ ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প (৩,৬০০ কোটি টাকার বেশি), ৫টি জাতীয় সড়ক প্রকল্প (২,৫০০ কোটি টাকার বেশি), মণিপুর ইনফোটেক ডেভেলপমেন্ট (MIND) প্রকল্প এবং ৯টি স্থানে কর্মজীবী মহিলাদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ।

প্রসঙ্গত, মণিপুরে চলমান অস্থিরতার মূল কারণ মেইতেই ও কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব। মেইতেই সম্প্রদায় ST মর্যাদা দাবি করলেও, কুকি গোষ্ঠী পৃথক প্রশাসনিক কাঠামোর দাবি করে আসছে, যেটিকে তারা ভূমি ও সম্পদের বণ্টনে বৈষম্যের ফলাফল বলে মনে করছে। এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন ভোরের আশা ও বিশ্বাস মণিপুরে উদিত হচ্ছে। শান্তি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই, সবাইকে নিয়ে চলতে হবে সংলাপ, সম্মান ও সহযোগিতার মাধ্যমে। ভারত সরকার সর্বশক্তি দিয়ে এই লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে।

Releated Posts

টাকা আদায়ের অভিযোগের তদন্তে গিয়ে মহিলা এসআই আক্রান্ত, গ্রেফতার ৩

তেলিয়ামুড়া, ২ অক্টোবর: গাড়িচালকের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ এবং কর্তব্যরত এক মহিলা সাব-ইন্সপেক্টরকে ধাক্কা দিয়ে…

ByByReshmi Debnath Oct 2, 2026

ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়কে উত্তর-পূর্ব ভারতের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে: মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ অক্টোবর: সীমিত সংখ্যক বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করা ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় আজ রাজ্যের শিক্ষা, গবেষণা…

ByByReshmi Debnath Oct 2, 2026

দূর্গাপূজায় বাড়তি বিদ্যুৎ চাহিদা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির নির্দেশ বিদ্যুৎ মন্ত্রীর

আগরতলা, ২ অক্টোবর: আসন্ন দূর্গাপূজা উপলক্ষে রাজ্যে নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে শুক্রবার ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ…

ByByReshmi Debnath Oct 2, 2026

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আশীর্বাদ নিলেন সস্ত্রীক বিপ্লব কুমার দেব

নয়াদিল্লি, ২ অক্টোবর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সস্ত্রীক সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সাংসদ বিপ্লব কুমার…

ByByTaniya Chakraborty Oct 2, 2026
Scroll to Top