তিয়ানজিন, ২৮ আগস্ট : আসন্ন সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর মধ্যে ৩১ আগস্ট এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। চীনের তিয়ানজিন শহরে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
এটি হবে দুই নেতার মধ্যে প্রায় এক বছরের ব্যবধানে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। এর আগে গত বছর অক্টোবর মাসে শেষবার দুই নেতা একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেই বৈঠকের পরেই ভারত-চীন সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা-সংক্রান্ত উত্তেজনা নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘোষণা করা হয়েছিল।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং মধ্য এশিয়ার একাধিক নেতার সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।
উল্লেখ্য, গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর চীন সফরে যান, যা ছিল ২০২০ সালের উত্তেজনার পর তাঁর প্রথম চীন সফর। সেই সফরে তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন।
জয়শঙ্কর একটি টুইটে বলেন, “দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতি সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট শিকে অবহিত করেছি। এই বিষয়ে আমাদের নেতাদের দিকনির্দেশনার মূল্য অপরিসীম।”
২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের পর থেকে ভারত-চীন সম্পর্ক বেশ খারাপ হয়ে যায়। তবে সম্প্রতি কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপের মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
সম্প্রতি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর বৈঠকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করা, পর্যটক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও অন্যান্য ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা সহজীকরণ ইত্যাদি।
এইসব উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে আশার সঞ্চার হয়েছে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।

