নয়াদিল্লি, ২২ অগাস্ট : ভবঘুরে সারমেয়দের নিয়ে আগে দেওয়া নির্দেশনা সংশোধন করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার, বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা ও এন ভি অঞ্জারিয়া সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ জানিয়েছে, নির্বীজন এবং টিকাকরণ সম্পন্ন হওয়ার পর ভবঘুরে কুকুরদের নিজ নিজ এলাকাতেই ছেড়ে দিতে হবে। তবে যেসব কুকুর র্যা বিসে আক্রান্ত বা অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক আচরণ করছে, তাদের ছাড়া যাবে না।
বেঞ্চ আরও নির্দেশ দিয়েছে, পাবলিক প্লেসে কুকুর খাওয়ানোর উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে এবং বিশেষভাবে নির্ধারিত জায়গা তৈরি করে সেখানে তাদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
শুধু দিল্লি-এনসিআর এলাকায় সীমাবদ্ধ না রেখে, সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার পরিসর সারা দেশে বিস্তৃত করেছে। দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে মামলার পক্ষভুক্ত করা হয়েছে এবং ভবঘুরে কুকুরদের নিয়ে একটি সার্বিক জাতীয় নীতি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত যেসব মামলা চলছে, সেগুলিকে সুপ্রিম কোর্টে স্থানান্তরের প্রস্তাব ও রাখা হয়েছে। আগের নির্দেশনার মতোই, বেঞ্চ জানিয়েছে, যে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন ভবঘুরে কুকুর অপসারণে বাধা দিলে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আদালত আরও বলেছে, যে কোনও ব্যক্তি বা এনজিও ভবিষ্যতে এই মামলায় হস্তক্ষেপ করতে চাইলে, তাদের যথাক্রমে ২৫,০০০ এবং ২ লক্ষ টাকা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রিতে জমা দিতে হবে। না হলে, তাদের আর মামলায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে না। আদালতের মতে, এই পদক্ষেপ অপ্রয়োজনীয় ও ভিত্তিহীন হস্তক্ষেপ এড়াতেই নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে দুই বিচারপতির বেঞ্চ (বিচারপতি জে বি পার্দিওয়ালা ও আর. মহাদেবন) দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে সব ভবঘুরে কুকুরকে ধরার ও তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশের পেছনে ছিল জননিরাপত্তা ও র্যা বিস সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ। বেঞ্চ বলেছিল, শিশু, মহিলা এবং প্রবীণ নাগরিকদের রাস্তায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এই নির্দেশের পরে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে তীব্র প্রতিবাদ উঠে আসে। অনেকেই একে নির্মম ও অসংবেদনশীল সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেন।

