নয়াদিল্লি, ২২ আগস্ট:সদ্য আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথমবার জনসমক্ষে এলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত। শুক্রবার গান্ধীনগরের আশোক বাজারে নির্ধারিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় তাঁকে। মুখ্যমন্ত্রীর আগমনের আগে থেকেই গোটা গান্ধীনগর মার্কেট এলাকা পরিণত হয় নিরাপত্তার চাদরে। একাধিক দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়, মোতায়েন করা হয় দিল্লি পুলিশ ও সিআরপিএফ-এর বিশাল বাহিনী।
এলাকাজুড়ে বসানো হয় চেকপয়েন্ট, চলাচলের ওপর রাখা হয় কড়া নজরদারি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, “পরিস্থিতি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ, তবে নিয়ন্ত্রিত।” যান চলাচলও ঘুরিয়ে দেওয়া হয় বিকল্প রুটে।
গত ২১ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর সিভিল লাইনসের সরকারি বাসভবনে ‘জন শুনানি’-র সময় চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রাজেশ ভাই খিমজি ভাই সাকারিয়া মুখ্যমন্ত্রীকে সেসময় চড় মারেন ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের নিরাপত্তা বহুগুণে বাড়ানো হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে সিআরপিএফ-এর সদস্যরা, যারা ২৪ ঘণ্টা পাহারায় থাকছেন।
রাজনৈতিক মহলে এই হামলা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান বিজেপি নেতা মনোজ তিওয়ারি, রামবীর সিং বিধুরি, যোগেন্দ্র চাঁদোলিয়া, প্রবীণ খাণ্ডেলওয়াল ও বংশুরি স্বরাজ প্রমুখ।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত রাজেশ ভাইকে বৃহস্পতিবার আদালতে পেশ করা হলে, আদালত তাকে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠায়। নতুন ভারতীয় দণ্ডবিধি (বিএনএস)-এর অধীনে তার বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টার (ধারা ১০৯), সরকারি কর্মীকে বাধা দেওয়ার (ধারা ১৩২) ও দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটানোর (ধারা ২২১) অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়া, তদন্তে নতুন মোড় এসেছে একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসার পর। ১৯ আগস্টের সেই ভিডিওতে দেখা যায়, রাজেশ একটি রিকশায় করে মুখ্যমন্ত্রীর শালিমার বাগের ব্যক্তিগত বাসভবনে পৌঁছান এবং একাধিকবার যাতায়াত করেন। অভিযোগ, সেখানকার স্টাফরা তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর সিভিল লাইনসের ঠিকানা ও ‘জন শুনানি’-র সময়সূচি লেখা একটি চিরকুট দেন, যা হয়তো হামলা পরিকল্পনার অংশ ছিল।
ঘটনার তদন্ত চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর সর্বশেষ জনসমক্ষে আগমন ঘিরে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা—দু’টিই তুঙ্গে।

