৩০ দিন হেফাজতে থাকলেই মন্ত্রিত্ব খোয়াতে হবে, বিতর্কিত বিল পেশ অমিত শাহের, প্রতিলিপি ছিড়ে বিক্ষোভ বিরোধীদের

নয়াদিল্লি, ২০ আগস্ট : সংসদে পেশ হল এক বিতর্কিত সংবিধান সংশোধনী বিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বুধবার লোকসভায় পেশ করলেন ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল। ওই বিলে প্রস্তাব রাখা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও মন্ত্রী যদি টানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকেন, তবে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এই বিল পেশ হতেই উত্তাল হয়ে ওঠে লোকসভা। বিরোধীরা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ছিঁড়ে ফেলেন বিলের প্রতিলিপি। তা ছুড়ে মারেন অমিত শাহের দিকেও। হট্টগোলের আবহে শেষে বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।

এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম সহ একাধিক অবিজেপি দল। তাঁদের অভিযোগ, এই বিলের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার পথ খুলে দেওয়া হচ্ছে। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যেকোনও ভিত্তিহীন মামলা করে ৩০ দিনের জন্য হেফাজতে রাখা যেতে পারে। তারপর তিনি পদচ্যুত হবেন। এটা পুরোপুরি অগণতান্ত্রিক ও সংবিধানবিরোধী।

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিরোধীদের নিশানা করে কেন্দ্র নতুন ফ্যাসিস্ট আইন আনছে। ক্ষমতা ও সম্পত্তির উপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতেই এ ধরনের পদক্ষেপ। তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেখানে কেন্দ্র ব্যর্থ, সেখানে বিরোধী কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখতেই তারা আইনি অস্ত্র ব্যবহার করছে। সিপিএম নেতা এমএ বেবি একে মোদী সরকারের “নয়া-ফ্যাসিবাদী আচরণ” বলে মন্তব্য করেছেন। সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস বলেন, এই বিলের লক্ষ্য অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করা।

এদিন লোকসভায় অমিত শাহ মোট তিনটি বিল পেশ করেন। তার মধ্যে রয়েছে, ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সরকার (সংশোধনী) বিল এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন (সংশোধনী) বিল। বিলগুলি পেশ হতেই বিরোধীরা প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। ওয়েলে নেমে স্লোগান, কাগজ ছেঁড়া ও মারমুখী আচরণে উত্তাল হয়ে ওঠে অধিবেশন কক্ষ। বিকেল ৩টা পর্যন্ত লোকসভা মুলতুবি করে দেন স্পিকার ওম বিড়লা।

বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অমিত শাহ বলেন, বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। শাসক ও বিরোধী উভয়ের সাংসদরাই সেখানে থাকবেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেন, সংসদে কাজ করতে এসেছি, হট্টগোল করতে নয়। বিরোধীদের আচরণ গণতন্ত্রের অবমাননা।

এই বিল ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিরোধীদের আশঙ্কা, এই আইনের অপব্যবহার করে তাঁদের নেতৃত্বকে টার্গেট করা হবে। কেজরীবাল, হেমন্ত সোরেনের গ্রেফতারির প্রেক্ষাপটে এই আশঙ্কা আরও জোরালো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিলের বাস্তবায়ন হলে সংবিধান, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ও গণতন্ত্র, তিনটিই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিলটি এখন যৌথ সংসদীয় কমিটির হাতে। আলোচনা ও সংশোধনের পর সংসদে ফের পেশ হবে। ততদিনে রাজনৈতিক বিতর্ক ও উত্তেজনা যে তুঙ্গে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য।