যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা নিয়ম লঙ্ঘনে কঠোর পদক্ষেপ: ভারতস্থ মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা

নয়াদিল্লি, ১২ জুলাই : যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ভিসাধারীদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, যারা মার্কিন আইন কিংবা অভিবাসন নিয়ম লঙ্ঘন করবেন, তাদের ভিসা বাতিল করে দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। এই পদক্ষেপ মার্কিন প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কড়াকড়ি এবং নজরদারি বৃদ্ধিরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে নতুন করে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে।

দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়ার পরেও যাচাই-বাছাই বন্ধ হয় না। আমরা সব সময় নিশ্চিত হই যে ভিসাধারীরা মার্কিন আইন ও অভিবাসন বিধিমালা অনুসরণ করছেন কি না। যারা এ নিয়ম লঙ্ঘন করছেন, তাদের ভিসা বাতিল করা হবে এবং তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে।” এই বিবৃতি এক্স মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এই সতর্কবার্তা এমন সময়ে এসেছে যখন সম্প্রতি মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির আওতাধীন অ-অভিবাসী এফ, এম ও জে ক্যাটাগরির ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ‘পাবলিক’ রাখতে হবে। এতে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের ব্যাকগ্রাউন্ড ও কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।

দূতাবাস জানিয়েছে, কেউ যদি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংক্রান্ত তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেন অথবা ভুল তথ্য দেন, তাহলে তার ভিসা আবেদন বাতিল হতে পারে এবং এমনকি তিনি চিরতরে যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার জন্য অযোগ্য ঘোষিত হতে পারেন।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৯ সাল থেকেই মার্কিন সরকার সব ভিসা আবেদনকারীদের বিগত পাঁচ বছরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা বাধ্যতামূলক করেছে। এই তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির পরিচয়, মতাদর্শ, অতীত কার্যকলাপ ও মার্কিন আইনে গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়।

মার্কিন দূতাবাস তাদের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে এ-ও বলেছে যে, “যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়া কোনো অধিকার নয়, বরং একটি সুযোগ। প্রতিটি ভিসা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।” এই বার্তাটি স্পষ্টতই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে এখন আরও বেশি নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে।

এছাড়াও, ২০২৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অ-অভিবাসী ভিসার জন্য নতুন একটি ‘ভিসা ইন্টেগ্রিটি ফি’ চালু হতে যাচ্ছে, যার পরিমাণ হবে ২৫০ মার্কিন ডলার। এটি এক ধরনের জামানতের মতো কাজ করবে, যা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে আবেদনকারীদের ফেরত দেওয়া হতে পারে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল করার একটি উদ্যোগ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসন পূর্বেও জানিয়েছিল, অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারীরা কারাদণ্ড, জরিমানা এবং স্থায়ীভাবে মার্কিন ভিসার জন্য নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবেন। দূতাবাস জানিয়েছে, যারা অভিবাসন আইন ভঙ্গ করেন, তাদেরকে আটক, ফেরত পাঠানো এবং ভবিষ্যতে ভিসা পাওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

এ অবস্থায় মার্কিন দূতাবাস একটি ডিজিটাল প্রচারাভিযান শুরু করেছে, যার আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টার, ভিডিও এবং পরামর্শমূলক বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য হলো, ভিসা আবেদনকারী ও ভিসাধারীদের সচেতন করা যেন তারা মার্কিন আইন ও নীতিমালা সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান রাখেন এবং সেগুলো অনুসরণ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের কড়াকড়ি দক্ষিণ এশীয় দেশ, বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ভিসা আবেদনকারীদের উচিত তাদের তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা, আইন মেনে চলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ করা।

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা বা কাজ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য এটি একটি স্পষ্ট বার্তা: আমেরিকান ভিসা শুধুমাত্র ভ্রমণের অনুমতি নয়, এটি দায়িত্বশীল আচরণ ও সততার প্রতীকও বটে।