মণিপুরে জঙ্গি সংযোগে তিনজন গ্রেপ্তার, রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান জোরদার

ইম্ফল, ৮ জুলাই : মণিপুরে জঙ্গি নেটওয়ার্ক এবং শহুরে চাঁদাবাজি চক্রের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী ৭ জুলাই জোরদার অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম হলেন ১৮ বছর বয়সী হুইনিংসুংবাম জর্জ বুশ মেইতেই ওরফে লালোইবা, যিনি কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টির (পিপলস ওয়ার গ্রুপ) সক্রিয় ক্যাডার। তাঁকে ইম্ফল ওয়েস্টের ল্যামফেল গ্রেস কলোনি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছিলেন। তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, একটি আইপ্যাড এয়ার এবং আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

একটি পৃথক অভিযানে ইম্ফল ইস্ট জেলার বামন কাম্পু মায়াই লেইকাই এলাকা থেকে ২৬ বছর বয়সী থোকচোম উইলসন সিং ওরফে বিকেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পিপলস রেভোলিউশনারি পার্টি অব কাংলেইপাক -এর সক্রিয় সদস্য এবং বিভিন্ন বাজার এলাকা যেমন চানচিপুর, মনত্রিপুখরি ও কাকওয়াতে দোকানদারদের কাছ থেকে চাঁদা তুলছিলেন। তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

তৃতীয় অভিযানে ঠৌবাল জেলার খুমন্তেম বিক্রমজিৎ সিং (৪৩) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি প্রিপ্যাক(পিআরও)-সহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের কাছে সিম কার্ড সরবরাহ করতেন বলে অভিযোগ। এসব সিম কার্ড মিয়ানমার-ভিত্তিক জঙ্গিদের হাতে পৌঁছত, যারা সেগুলো ব্যবহার করে ঠৌবালের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করত। অভিযানে একটি রিয়েলমি মোবাইল, দুটি সক্রিয় সিম কার্ড এবং ১০০-র বেশি বিভিন্ন অপারেটরের সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে।

একইসঙ্গে পুলিশ রাজ্যজুড়ে বাড়তি নজরদারির অংশ হিসেবে ৭ জুলাই ট্রাফিক লঙ্ঘনের ঘটনায় ১৫টি চালান কেটে ২৬,৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। আগের দিন বিশেষ ড্রাইভে ১৬টি গাড়ি থেকে টিন্টেড গ্লাস সরানো হয়।

প্রান্তিক ও স্পর্শকাতর এলাকায় সার্চ অপারেশন এবং টহলদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। জাতীয় সড়ক ৩৭-এ নিরাপত্তা বহরের সাহায্যে ২১৭টি জরুরি পণ্যের গাড়ি গন্তব্যে পৌঁছায়। এছাড়াও, রাজ্যজুড়ে ১১১টি চেকপোস্ট বসানো হয়, যার ফলে ছয়জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এই অভিযান চলমান থাকবে এবং যে কোনও নিরাপত্তা হুমকি দমন করতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরিস্থিতির উপর নজরদারি আরও জোরদার করতে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী একযোগে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।