উনকোটিতে ‘জনজাতীয় গৌরব দিবস’ সাফল্য: ৩৭,৮০০ জন উপকৃত, ১৯ নতুন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র

আগরতলা, ৩ জুলাই, : দেশের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মর্যাদা ও উন্নয়নে এক নতুন দিশা দেখিয়েছে ভারত সরকার। ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে ১৫ই নভেম্বর, প্রখ্যাত আদিবাসী স্বাধীনতা সংগ্রামী ধরতি আবা ভগবান বিরসা মুন্ডা-র জন্মবার্ষিকী স্মরণে ‘জনজাতীয় গৌরব দিবস’ ঘোষণা করা হয়। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, ঊনকোটি জেলা প্রশাসন ‘জনজাতীয় গৌরব দিবস’-এর ভাবনাকে সামনে রেখে জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় বিশেষ প্রশাসনিক শিবির আয়োজন করে। ‘ধরতি আভা জন ভাগিদারী অভিযান’ এবং ‘সচেতনতা ও উপকার প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ শিবির’-এর মাধ্যমে আদিবাসীদের ঘরে ঘরে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এই অভিযান শুধু অতীতকে স্মরণ করা নয়, বরং জনঅংশগ্রহণ এবং সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আদিবাসীদের উন্নয়নে একটি সুদূরপ্রসারী আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছে। ‘ধরতি আভা জনজাতীয় উৎকর্ষ গ্রাম অভিযান’ এবং ‘প্রধানমন্ত্রী জনজাতি আদিবাসী ন্যায় মহা অভিযান’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করে এটি নির্মিত হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য আদিবাসী জনগণের ন্যায়, উন্নয়ন এবং মর্যাদা নিশ্চিত করা।

জেলাশাসক ও সমাহর্তা ডঃ তমাল মজুমদার আজ তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে এই অভিযানের সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৫ই জুন থেকে ৩০শে জুন পর্যন্ত ১৫ দিনব্যাপী চলা এই অভিযানে জেলার ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ২৭৯টি প্রশাসনিক শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, ৩৭ হাজার ৮০০ জন জনজাতি মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।

এই অভিযানের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলো, ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ১৯টি নতুন অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের আদিবাসী শিশুদের পুষ্টি ও প্রারম্ভিক শিক্ষায় আরও জোর দেওয়া সম্ভব হবে।
শিবিরগুলিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি ও পরিষেবা প্রদানে সহায়তা করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে: আধার কার্ড, আয়ুষ্মান ভারত কার্ড, রেশন কার্ড, কাস্ট সার্টিফিকেট,পাট্টা, পেনশন যোজনা, পিএম গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনা, পিএম জনধন যোজনা, কিষাণ সম্মান নিধি, উজ্জ্বলা যোজনা, সুরক্ষা সমৃদ্ধি যোজনা।

পাশাপাশি, প্রতিটি এলাকায় পানীয় জলের সুবন্দোবস্ত, রাস্তাঘাটের সংস্কার, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর, বিনামূল্যে চাল বিতরণ এবং গ্রামীণ বিদ্যুতায়নের মতো মৌলিক নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজও সুচারুভাবে সম্পন্ন করেছে প্রশাসন।

এই বিশেষ অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীরা ঝুমুর নৃত্য পরিবেশন করেন, যা আদিবাসী সংস্কৃতির এক ঝলক তুলে ধরে। এছাড়াও, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নেশামুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকারে নাটকও মঞ্চস্থ হয়, যা সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সাধারণ মানুষকে সরাসরি পরিষেবা প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য দপ্তর, মহকুমা প্রশাসন এবং টিআরএলএম-এর পক্ষ থেকে বিশেষ স্টল খোলা হয়েছিল।

সাংবাদিক সম্মেলনে জেলাশাসক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক অর্ঘ্য সাহা এবং এল. ডারলং, সিনিয়র ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ ধর ও সমাজ কল্যাণ দপ্তরের জেলা পরিদর্শক বিদ্যাসাগর দেববর্মা। ঊনকোটি জেলা প্রশাসনের এই জনমুখী উদ্যোগ আদিবাসী কল্যাণে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।