ঢাকা, ২৪ জুন: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তা হিসেবে ১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে। এ অর্থ ২৬ জুনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে জমা দেওয়া হবে বলে আইএমএফ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইএমএফের নির্বাহী বোর্ড কর্মক্ষমতা সংক্রান্ত কিছু মানদণ্ড সংশোধন ও একটির ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটায় তা মেনে নিয়েছে এবং সাময়িক ব্যত্যয়ের কারণে শর্ত শিথিল করেছে। সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করায় এই ব্যত্যয় মাফ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের গ্রীষ্মে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর তৎকালীন সরকার পতনের মাধ্যমে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর থেকেই দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ আরও তীব্র হয়েছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, কঠোর আর্থিক নীতি, বাণিজ্যে বাধা এবং ব্যাংকিং খাতে চাপ বৃদ্ধি—এই সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ দুর্বল হয়েছে বলে আইএমএফ জানিয়েছে।
২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচি অনুমোদন করেছিল আইএমএফ, যার মেয়াদ তিন বছর ছয় মাস। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার মূলত চলতি হিসাবে ঘাটতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে পতনের কারণে এই ঋণের আবেদন করেছিল।
আইএমএফ জানায়, এই ঋণ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা প্রদান এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশবান্ধব প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তির অর্থছাড় দেশের অর্থনীতিতে বহুলপ্রত্যাশিত সহায়তা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে, বিশেষ করে বৈদেশিক খাতে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
2025-06-24

