দুর্নীতি ও অপশাসনের স্বর্গ রাজ্যে পরিণত হয়েছে ত্রিপুরা : বিরোধী দলনেতা

আগরতলা, ৮ মার্চ : বিজেপি সরকারের আমলে দুর্নীতি ও অপশাসনের স্বর্গ রাজ্যে পরিণত হয়েছে ত্রিপুরা। শিক্ষাক্ষেত্র থেকে শুরু করে রাজ্যের সর্ব ক্ষেত্রে দুর্নীতির জাল রয়েছে। আজ সেই বিজেপি সরকার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ঘটা করে জনসভার আয়োজন করছে। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে এভাবেই বিজেপি সরকারকে আক্রমন করেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী।

এদিন শ্রী চৌধুরী বলেন, বিজেপি সরকার নির্বাচনী ইস্তেহারে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সে সমস্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার এখন কোনো মুখ খুলছে না। তাঁদের প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল রাজ্যে বেকার সমস্যা সমাধান করা। কিন্তু বর্তমানে বেকাররা চাকুরীর সন্ধানে দিশেহারা হয়ে ঘুরছেন। ত্রিপুরায় বেকার সমস্যা এখন জলন্ত দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া, বিজেপি সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ৩০০ টাকা রেগার মজুরি প্রদান করবে। এখনো পর্যন্ত তাও পূরণ করে নি। এখন ত্রিপুরায় রেগার মজুরি ২৪০ টাকা হয়েছে। তাও বছরে গড়ে ৩২ দিন কাজ হয়। তাঁর কটাক্ষ, অপশাসন, দুর্নীতি এবং নৈরাজ্যের মধ্যে দিয়ে বিজেপির দ্বিতীয় মেয়াদের আজ দুই বছর পূর্তি হয়েছে। আসলে, এই দুই বছরে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডাঃ) মানিক সাহার নেতৃত্বে ত্রিপুরায় দুর্নীতির মহাকুম্ভ মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।

এদিন তিনি বলেন, ২০১৮ সালে বিজেপি সরকার দেওয়া একটিও প্রতিশ্রুতি পালন করছেন না। বিজেপি তরফ থেকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতায় আসলে সরকার কর্মচারীদের সপ্তম পে কমিশন দেওয়া হবে। আর এই লালসার দিকেই পা বাড়িয়েছিলেন তৎকালীন সময়ে সরকারী কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সপ্তম পে কমিশন কার্যকরী করে নি বিজেপি সরকার। গতকাল বিজেপির জনসমাবেশে জনগন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব সহ অন্যান্যদের কাছ থেকে জবাব চাইবেন, বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

তাঁর অভিযোগ, ২০১৮ সাল থেকে রাজ্যের গণতন্ত্র অধিকার হরণের ধারা অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া, আরএসএস পরিচালিত বিজেপি সরকার গোটা দেশে নয়া ফ্যসিস্ট সুলভ এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমে অব্যাহত রয়েছে।রাজ্যের বিরোধী দলের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং অনুষ্ঠান বানচাল করার ধারা বিজেপি সরকারের আমল থেকে শুরু হয়েছে। তার দৃষ্টান্তমূলক উদাহারণ হল কিছুদিন আগে সিপিএমের রাজ্য সম্মেলনে বাঁধা দেওয়া হয়েছিল। তাছাড়া, সারা রাজ্যে সন্ত্রাস কায়েম করে ছাপ্পা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ঘটনা জনগনের জানা রয়েছে।

এদিন তিনি আরো বলেন, দুর্নীতি ও অপশাসনের স্বর্গ রাজ্যে পরিণত হয়েছে ত্রিপুরা। শিক্ষাক্ষেত্র থেকে শুরু করে রাজ্যের সর্ব ক্ষেত্রে দুর্নীতির জাল রয়েছে। কিছুদিন আগে টিএমসিতে অর্থের বিনিময়ে অকৃতকার্য ছাত্রছাত্রীদের পাশ করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে এবিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিন্তু এখনো পর্যন্ত জানা যায় নি কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগামী দিনের ছাত্র ছাত্রীদের ভবিষ্যত নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আজ সেই বিজেপি সরকার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ঘটা করে জনসভার আয়োজন করছে।