ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়: উত্তর ত্রিপুরার নাসির উদ্দিনের সাফল্যের গল্প

আগরতলা, ২২ ফেব্রুয়ারি : উত্তর ত্রিপুরার কদমতলা ব্লকের বিতরাকুল কালা গঙ্গেরপার গ্রামের যুবক নাসির উদ্দিন আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য বদলেছেন এবং কৃষিক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করেছেন। তাঁর সফলতার গল্প প্রমাণ করে যে, ইচ্ছা থাকলে উপায় খুঁজে পাওয়া যায়।

মাধ্যমিকের পর পড়াশোনায় তেমন মনোযোগ না থাকার কারণে নাসির পড়াশোনা বন্ধ করে দেন। তবে একদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুল চাষের ব্যাপারে জানতে পেরে, নতুন এক স্বপ্ন দেখেন এবং কৃষিক্ষেত্রে আত্মনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন।

২০১৯ সালের মার্চে কলকাতা থেকে ২০০টি কুলের চারা কিনে এনে এক কানি (০.৪ একর) জমিতে রোপণ করেন। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি, মাত্র এক বছর পর তাঁর গাছগুলোতে প্রথম ফল আসে। প্রথম বছরে তিনি ছয় লাখ টাকা লাভ করেন।

মহামারি সত্ত্বেও থেমে না থেকে, পরের বছর ৮০০টি নতুন চারা সংগ্রহ করে পাঁচ কানি (প্রায় ২ একর) জমিতে কুল চাষ শুরু করেন। এর ফলে তাঁর গাছের সংখ্যা দাঁড়ায় ১,০০০-এ। বর্তমানে তাঁর বাৎসরিক লাভ আট থেকে নয় লাখ টাকা।

নাসির তার কুল বাড়ি থেকেই বিক্রি করেন, প্রতি কেজির দাম ১০০ টাকা। একেকটি গাছ থেকে বছরে ৩০-৪০ কেজি ফল উৎপাদিত হয়। তাঁর খামারের সুনাম এখন দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়েছে, প্রতিদিন গড়ে ৫০-৬০ জন ক্রেতা আসেন। তিনি ইতোমধ্যে প্রায় ১২০ কুইন্টাল কুল বিক্রি করেছেন।

২০২০ সালে, কৃষি বিভাগ থেকে নাসির ১০,০০০ টাকা সহায়তা এবং খামার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৮,০০০ টাকা অনুদান পান। এছাড়া, সেচের সুবিধার জন্য সরকার তাঁকে পাইপও প্রদান করেছে।

বর্তমানে, কুল চাষের পাশাপাশি নাসির তাঁর বাগানে চার প্রজাতির কুল, মৌসুমি, আম এবং ড্রাগন ফল চাষ করছেন।

নিজের সফলতার পাশাপাশি, নাসির নতুন কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন এবং কুল চারা ১০০ টাকা দামে বিক্রি করছেন। ইতোমধ্যে তিনি পাঁচজন কৃষকের জন্য নতুন খামার গড়ে দিয়েছেন এবং তাঁর উৎসাহে ১৫ জন নতুন উদ্যোক্তা কুল চাষ শুরু করেছেন।

নাসির বর্তমানে তাঁর পরিবারসহ সুখে শান্তিতে বসবাস করছেন এবং তরুণদের সরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে, নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করে স্বনির্ভর হওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর সাফল্যের গল্পে একটাই বার্তা— “ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়!”