আগরতলা, ২৬ ডিসেম্বর: ধর্মের মূল কথা হলো মনের সমস্ত গ্লানি দূর করে শুভচেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়া। শুভ চেতনায় মানুষের জন্য কাজ করাই হচ্ছে পরম ধর্ম। আজ মহানামব্রত ব্রহ্মচারীজির ১২১ তম শুভ আবির্ভাব তিথি উপলক্ষ্যে বনমালীপুর স্থিত শ্রী শ্রী মহানাম অঙ্গনে আয়োজিত শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা।
প্রসঙ্গত, বিশ্ববরেণ্য দার্শনিক, ভাগবত গঙ্গোত্তরী, মানবধর্মের উদ্গতা মহামহোপাধ্যায় বৈষ্ণবার্চ ডঃ মহানামব্রত ব্রহ্মচারীজির ১২১ তম শুভ আবির্ভাব উৎসব উপলক্ষে আজ আগরতলায় শ্রী শ্রী মহানাম অঙ্গনে এক বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হযেছে নিখিল ত্রিপুরা মহানাম সেবক সংঘের উদ্যোগে৷ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নিখিল ত্রিপুরা বৈষ্ণবাচার্য শ্রীমন মহানামব্রত ব্রহ্মচারী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সুদীপ কুমার রায়। উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, কর্পোরেটর রত্না দত্ত, মহানামব্রত ব্রহ্মচারী সংস্থার সভাপতি ডা. সঞ্জয় নাথ, উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান ডা. তপন দেবনাথ প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ দুস্থ মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০০ জন দুস্থ মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মহানাম সেবক সংঘ মানব কল্যাণে বরাবরই সমাজসেবামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে৷ তাছাড়া, জনগণকে নানা ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে আসছে মহানাম সেবক সংঘ৷ তিনি সংঘের কর্মধারার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন৷ মহানামব্রত ব্রহ্মচারীজি আমাদের যে পথ দেখিয়ে গেছেন তা সমাজের কাছে পৌঁছে দিতে পারলেই তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হবে। আমাদের কাজের মধ্য দিয়েই ধর্মের পরিচয় পাওয়া যায়। মহানামব্রত ব্রহ্মচারীজিও আমেরিকার শিকাগো শহরে সনাতন ধর্ম নিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন। যা আজও দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। শুধু শিকাগো শহর নয়, সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনার জন্য তাঁকে অনেক জায়গায় ডাকা হতো। তিনি আধ্যাত্মিক চেতনার মাধ্যমে ভারতবর্ষকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে তুলে ধরেছিলেন।
এদিন তিনি আরও বলেন, আগরতলা পুরনিগম মহানাম অঙ্গন মন্দিরের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সৌন্দার্যায়ণে ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয় করবে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মহানাম অঙ্গণের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সমাজের জন্য কাজ করাই আসল ধর্ম। বিভিন্ন অসামাজিক কাজ থেকে বিরত রয়েছে টই আশ্রম। সামাজিক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারলেই মানব ধর্ম পালনের স্বার্থকতা আসে। শিক্ষাকে পাথেয় করে মনের গ্লানি দূর করে মনকে শুদ্ধতায় পরিপূর্ণ করার যে ধ্যান-ধারণা এবং চিন্তা চেতনা মহানামব্রত ব্রহ্মচারীজীর ছিল তা সমাজে ছড়িয়ে দিতে সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন তিনি।