সরকারি চাকরি ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন সন্দীপ, চিঠি দাখিল করে চাঞ্চল্যকর দাবি

কলকাতা, ১৬ সেপ্টেম্বর (হি.স.): ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নাকি, আর জি কর হাসপাতালের অধ্যক্ষ পদ-সহ সরকারি পদ থেকে স্বেচ্ছাবসর নিতে চেয়েছিলেন সন্দীপ ঘোষ। তাঁর তরফে এই মর্মে একটি চিঠি তুলে দেওয়া হয়েছে সিআইডি-র হাতে। এই চিঠি নিয়ে ধন্দ দেখা দিয়েছে।

চিঠির বয়ান অনুযায়ী সন্দীপবাবু লিখেছিলেন, “২০০০ সালের ৪ মে থেকে ২৪ বছরেরও বেশি আমি সরকারি ডাক্তার হিসেবে কাজ করছি। আমার বিরুদ্ধে আদালত বা ভিজিল্যান্সে কোনও মামলা চলছে না। তাই আমার স্বেচ্ছাবসর নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করা হোক”। স্বাস্থ্য ভবনে চিঠি দিয়ে স্বেচ্ছাবসর নিতে চেয়েছিলেন আর জি কর মেডিক্যালের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। সেই সময়ই নাকি আর জি করের অধ্যক্ষের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি, সরকারি চাকরি ছেড়ে দেওয়ারও ইচ্ছে প্রকাশ করেন  তিনি।

সেই চিঠি সামনে এল এতদিন পর। কিন্তু তাঁকে ছাড়চে চায়নি রাজ্য সরকারই। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষের পদ থেকে ইস্তফা দিলেও বিকেলেই তাঁকে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের মাথায় বসিয়ে দেয় রাজ্য সরকার। যদিও ন্যাশনাল মেডিক্যালের পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মুখে সিদ্ধান্ত বদল করা হয়।

প্রসঙ্গত, আর জি কর মেডিক্যালে চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডলের মধ্যে যোগসাজশ ও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের দাবি করেছে সিবিআই। একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এনেছেন তদন্তকারী অফিসাররা। গত ৯ অগাস্ট, আর জি কর মেডিক্যালের সেমিনার রুম থেকে উদ্ধার হয় তরুণী চিকিৎসকের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ।  তারপর থেকেই আর জি কর মেডিক্যালের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে ওঠে একগুচ্ছ অভিযোগ, বিতর্ক। শেষমেষ আন্দোলনকারীদের তীব্র চাপে গত ১২ আগস্ট সকালে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দেন সন্দীপ ঘোষ।