হাইলাকান্দিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রকল্প সম্পন্ন করার নির্দেশ মন্ত্রী অতুল বরা’র

হাইলাকান্দি (অসম) ১০ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : রাজ্যের কৃষি, ভেটেনারি, সীমান্ত উন্নয়ন ইত্যাদি বিভাগের মন্ত্রী অতুল বরা জনসাধারণের কল্যাণের জন্য সরকার গৃহীত প্রকল্প গুলির রূপায়ণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার হাইলাকান্দিতে বিভিন্ন বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে এক পর্যালোচনা বৈঠকে এই নির্দেশ দেন। মন্ত্রী অতুল বরা বলেন, দেশের প্রথম সারির পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে আসামকে নিয়ে আসতে মুখ্যমন্ত্রী  সর্বাত্মক পরিশ্রম করছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই স্বপ্নকে সার্থক করার জন্য আধিকারিকদেরকে তাদের অধীনস্থ প্রকল্পগুলি রূপায়ণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে মন্ত্রী আহ্বান জানান। তিনি বলেন ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার জেলাগুলি থেকে বরাক উপত্যকার জেলা গুলি উন্নয়নের ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে পড়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বারাক উপত্যকার জেলাগুলির রিভিউ মিটিং ঘন ঘন করতে মন্ত্রীরা এখানে ঘন ঘন আসছেন। সভায় জেলা কৃষি আধিকারিক আব্দুল বাতেন চৌধুরী  জানান, রবি শস্য এবং মিলেট উৎপাদনের জন্য জেলায় দুই  হাজার প্রগতিশীল কৃষককে বীজ দেওয়া হয়েছে। অনলাইন পোর্টালে এইসব তথ্য আপলোড করা হয়েছে। বিতরনের আগে এইগুলি প্রশাসন থেকে স্টক ভেরিফাই করা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট ভেটেনারি অফিসার জে এ তালুকদার জানান, জেলার গবাদি পশুদের তৃতীয় রাউন্ডের ভ্যাকসিন চলছে। লক্ষ্যমাত্রা ১ লক্ষ ২৫ হাজার। স্বাস্থ্য যুগ্ম সঞ্চালক ডা: অলকানন্দা নাথ জানান জেলার হাসপাতাল গুলিতে প্রশাসনিক ডাক্তার এবং সার্জারি বিভাগের ডাক্তার নেই। তিনি বলেন জেলায় প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর হার কমেছে এবং ম্যালেরিয়া রোগেরও প্রাদু্র্ভাব কমেছে। তবে এবছর অর্থাৎ চলতি মরসুমে যে আটটি ম্যালেরিয়া রোগের কেইস ধরা পড়েছে তা মিজোরাম থেকে আসা রোগী বলে তিনি জানান। ফিশারি বিভাগ থেকে জানানো হয় যে জেলার প্রয়োজনের ৯৫ শতাংশ মৎস্য জেলায় উৎপাদন হয়। বাইরে থেকে কেবল পাঁচ শতাংশ মৎস্য আনা হয় বর্তমানে। গত অর্থ বছরে জেলায় ২০ হাজার ৪৬২ মেট্রিক টন মৎস্য উৎপাদন হয়েছে বলে বিভাগ থেকে জানানো হয়।পি এইচ ই বিভাগ থেকে জানানো হয় যে শহরে একটি নতুন আরবান ওয়াটার সাপ্লাই স্কিম এর জন্য টেন্ডার শীঘ্রই ডাকা হবে। জেলায় যেসব জল সরবরাহ স্কিম থেকে পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছে সেগুলি সম্পর্কে কোন অভিযোগ নেই বলে বিভাগ থেকে জানানো হয় সভায়। শিক্ষা বিভাগ থেকে জানানো হয় যে, জেলার ১২৫৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এক লক্ষ উনিশ হাজার ১৯৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ৫৭ টি এল পি স্কুলে একজন করে শিক্ষক রয়েছেন বলে বিভাগ থেকে জানানো হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে জেলা আয়ুক্ত নিসর্গ হিভারে জানান যে নিযুত ময়না প্রকল্প চালু করার জন্য জেলার যোগ্য ২৯ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১ টি তিনি নিজে পরিদর্শন করেছেন। এতে তিনি দেখেছেন যে এই প্রকল্পটির জন্য জেলায় খুব ভালো সাড়া পড়েছে বলে জানান জেলা আয়ুত্ত। শিক্ষা বিভাগ থেকে জানানো হয় যে আয়নাখালে উইমেন মডেল কলেজের কাজ আগামী মার্চ মাসে এবং বন্দুকমারায় রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের কাজ আগামী ডিসেম্বর মাসে শেষ হবে। সভায় অংশ নিয়ে বিধায়ক সুজাম উদ্দিন লস্কর জেলায় কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর  জন্য আরো সহকারী সরঞ্জাম সরবরাহ করার প্রস্তাব দেন। এতে অংশ নিয়ে বিধায়ক জাকির হোসেন লস্কর লালা শহরের ওয়াটার লগিং প্রবলেম নিরসনের জন্য মন্ত্রীর দৃষ্টির আকর্ষণ করেন। সবাই সব বিভাগের শীর্ষ অধিকারী সহ ডিডিসি এল্ডাড ফাইরিম এবং  জেলা পরিষদের সিইও রণজিৎ কুমার লস্কর অংশ নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *