খোয়াই জেলা পরিদর্শন করলো কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল

নিজস্ব প্রতিনিধি, খোয়াই, ৩০ আগস্ট: বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণে খোয়াই জেলা পরিদর্শন করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। সাম্প্রতিক বিধ্বংসী বন্যায় সমগ্র খোয়াই জেলা জুড়ে কৃষি থেকে শুরু করে প্রতিটি বিভাগেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।আমন ধান সহ কৃষিজাত ফসল উৎপাদনে ও উদ্যানজাত গ্রীষ্মকালীন শাক সব্জির চাষেও। গ্রাম শহরের রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রেও কমবেশী ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে।জলাশয় ও পুকুর থেকে বিশাল পরিমাণ মাছ বন্যার জলের তোড়ে ভেসে যাওয়ার কারণে মাছ চাষের বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়।

শুক্রবার সেই ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করেন আন্ত:মন্ত্রণালয়ের একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল।আইএমসিটি পরিদর্শনকারী দল খোয়াইয়ের বন্যার কারণে ক্ষয়ক্ষতির  মূল্যায়ন করেছে। প্রতিনিধি দলটি এদিন সকাল দশটায় খোয়াই ব্লক এলাকার পশ্চিম সোনাতলা গ্রামের জামিরা গ্রামে ছুটে যান। সেখানে তারা কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং সাধারণ মানুষের বাড়ি ঘরের ক্ষয়ক্ষতিসহ খোয়াই নদীর আশপাশ অঞ্চল গুলো ঘুরে দেখেন। পরে এই প্রতিনিধি দলটি চেবরী গ্রাম পঞ্চায়েতের দুটি পুকুর পরিদর্শন করেন এবং পুকুরের মালিকদের সঙ্গে কথা বলেন ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলো নিয়ে। পরে কেন্দ্রীয় এই প্রতিনিধি দলটি কল্যাণপুর ব্লক এলাকার কমলনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি জমিগুলো পরিদর্শন করেন।

এরপর দক্ষিণ ঘিলাতলী গ্রাম পঞ্চায়েতের রতিয়া, কল্যাণপুরের চা বাগান এবং ঘিলাতলি বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত স্টিল ব্রিজটি পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে এই প্রতিনিধি দলটি চলে যান মুঙ্গিয়াকামী ব্লক এলাকায়। সেখানে জাতীয় সড়কের ভগ্নদশা গুলো পরিদর্শন করার পাশাপাশি তারা ৪১ মাইল এবং ৪৭ মাইল এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন। আন্তঃ মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন মহেশ কুমার, পি কে মিনা, শশাঙ্ক ভূষাণ।

এছাড়াও এই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ছিলেন খোয়াই জেলার জেলাশাসক চাঁদনী চন্দ্রন, অতিরিক্ত জেলাশাসক, খোয়াই ও তেলিয়ামুড়ার মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট, কৃষি দপ্তর, মৎস্য দপ্তর, প্রাণিসম্পদ দপ্তর, ডি ডব্লিউ এস দপ্তর, বিদ্যুৎ দপ্তর সহ অন্যান্য দপ্তরের জেলা স্তরের আধিকারিকরা সহ আইসিএ দপ্তরের তিন আধিকারিক।

এক সাক্ষাৎকারে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের আধিকারিক মহেশ কুমার জানিয়েছেন, গোটা রাজ্যে দুটি দল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জেলাগুলোতে পরিদর্শন করেছেন। প্রতিটি স্থানে কৃষি, মৎস্য, রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে বেশ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তারা দেখেছেন। পরিদর্শন শেষে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে একটি রিপোর্ট তারা রাজ্য সরকারকে যেমন দেবেন ঠিক তেমনি আন্তঃমন্ত্রণালয়েও পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *