আগরতলা, ২৮ আগস্ট : ভোগ লালসা নয়, মাকর্সবাদ ও লেলিনবাদেই বিশ্বাস করতেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্য। এজন্যই একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে প্রয়াত ওই কমিউনিস্ট নেতার প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক বিমান বসু। বুধবার আগরতলায় পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্যের স্মরণ সভায় দাঁড়িয়ে বিমান বসুর এই তুলনামূলক বিশ্লেষণ যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, স্মরণসভায় মঞ্চে উপস্থিত ত্রিপুরার কমিউনিস্ট নেতৃত্ব বিত্ত বৈভবের নেশায় ডুবে রয়েছেন। নিন্দুকের মতে, তাঁরা কমিউনিজম ভুলে গেছেন।
এদিন তিনি বলেন, সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখে কমিউনিস্টরা। যে কমিউনিস্টরা জীবনের শ্রম ও সময় ব্যয় করেন তাঁরা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্যকে স্মরণ করবেন। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্যও আর পাঁচটি পরিবারের মতো একটি পরিবারের জন্মগ্রহণ কমেছিলেন। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য তাঁর কাকু ছিলেন।
এদিন তিনি আরও বলেন, কলকাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াকালীন তিনি ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদে পা দিয়েছিলেন। তাঁর রাজনীতির জীবনে অনেক চড়াই উৎরাই ছিল। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্য নীতিনিষ্ঠ একজন কমিউনিস্ট ছিলেন। তিনি জীবনের লক্ষ্যে স্থির ছিলেন। একবিংশ শতাব্দীতে যাঁদের মধ্যে ভোগ লালসা বেড়েছে সেই জায়গায় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্য মাকর্সবাদ, লেলিনবাদের আর্দশকে বিশ্বাস করতেন।
তাঁর কথায়, তৎকালীন সময়ে যুব সমাজকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন বুদ্ধদেব। রাষ্ট্র এবং সমাজ পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন তিনি। বাংলার শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্য আধুনিকতার ছাপ রেখে গিয়েছেন। তিনি শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক মনোভাব নিয়ে চলার বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি রাজনীতিবিদ না হলে একজন সাহিত্যিক হিসেবে পরিগণিত হতেন, বলেন বিমান বসু।
এদিন তিনি আরও বলেন, ১৯৭৭ সালে ২১ জুন বামফ্রন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে কলকাতার আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অগণিত অভিনেতা, অভিনেত্রী এসেছিলেন। তাছাড়াও নাট্য উৎসব সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্য নিজের ছাপ রেখে গিয়েছেন।

