কলকাতা, ২৮ আগস্ট (হি.স.): বিজেপি-র বনধকে কেন্দ্র করে বুধবার কোলে মার্কেটে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। সম্মুখসমর হয় বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ ও তৃণমূলের মধ্যে। পুলিশের সামনেই ধস্তাধস্তি, উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ বাড়ি থেকে আটক করে সজল ঘোষকে নিয়ে যায়।
অশান্তিতে উসকানি দেওয়া, জোর করে দোকান বন্ধ করানোর মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে সজলের বিরুদ্ধে। তবে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করতে রীতিমতো বেগ পেতে হয় পুলিশকে। প্রমীলা বাহিনী ঘিরে ছিল তাঁকে। শেষমেশ তাঁদের সরিয়ে দিয়ে পুলিশ বিজেপি কাউন্সিলরকে ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। কেন এভাবে আটক করা হল? প্রশ্ন তুলে নতুন করে প্রতিবাদে নামে বিজেপি।
এদিন একদিকে হাতজোড় করে বনধে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাতে দেখা যায় বিজেপি কাউন্সিলরকে। অন্যদিকে, তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় একাংশ। শামিল হন ব্যবসায়ীরাও। ‘ওষুধের দোকান বন্ধ করতে বলা কোন ধরনের রাজনীতি’ বলে বিক্ষোভ থেকে আওয়াজ তোলেন কেউ কেউ। সব মিলিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা ছড়ায় সেখানে।
এদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাতজোড় করে শান্তিপূর্বক দোকান বন্ধ করার কথা বলছিলেন বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছিলেন তিনি। ঘুরতে ঘুরতে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে তিনি কোলে মার্কেটে আসেন। সেই সময় একটি ওষুধের দোকানে শাটার বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গন্ডগোল শুরু হয়।
ব্যবসায়ীরা সজল ঘোষকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান। সেই সময় বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, ‘সজল ঘোষ তোলাবাজ। যে মানুষ ওষুধের দোকান বন্ধ করে সে সমাজের বিরোধী।’ বিজেপি কাউন্সিলর জোরজবরদস্তি করে ওষুধের দোকান বন্ধ করছিলেন বলে অভিযোগ।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে সজলকে বলতে শোনা যায়, “আমরা হাতজোড় করে অনুরোধ করছি। গায়ের জোর দেখাইনি। আপনারাও এই বনধে শামিল হন। হাত জোড় করে অনুরোধ করছি।” ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। সেই সময় নিরাপত্তাপরক্ষীরা তাঁকে ঘিরে রাখেন। মুচিপাড়া থানার পুলিশও তাঁকে বের করে আনার চেষ্টা করেন। একাংশ বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে তাঁর পাল্টা অভিযোগ, এরা সমাজবিরোধী। এরা ধর্ষকের সমর্থক। এর পর সজল বাড়ি চলে গেলেও অশান্তি চলতে থাকে। পুলিশ তাঁকে আটক করে নিয়ে যায়।

