ক্যানিং ও বাসন্তী, ২১আগস্ট (হি. স.) : আর জি কর কান্ডের রেশ যেন কিছুতেই কমতে চাইছে না। বরং যত দিন যাচ্ছে ততই গণ আন্দোলন যেন আরও বেশি করে দানা বাঁধছে। দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে প্রতিদিন নতুন নতুন করে প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত হচ্ছে। শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও এই প্রতিবাদ জোরদার চলছে। সকলের একটাই দাবি দোষীদের গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। মহিলা চিকিৎসকের নৃশংস মৃত্যুর বিচার চান সকলেই।
বুধবার সকালে ক্যানিংয়ের রায়বাঘিনী হাইস্কুলের পড়ুয়ারা স্কুল বন্ধ করে প্রতিবাদে নামে। এদিন স্কুল থেকে প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়। গোটা ক্যানিং শহরকে প্রদক্ষিণ করে এই মিছিল। স্কুল পড়ুয়ারা পোস্টার, প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ শ্লোগানে মেতে ওঠে। দীর্ঘ প্রায় ছয় কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে চলে তাদের এই প্রতিবাদ মিছিল। স্কুলের প্রায় এক হাজার পড়ুয়া এই প্রতিবাদ আন্দোলনে সামিল হয় এদিন। মিছিলে হাটতে গিয়ে অসুস্থও হয়ে পড়ে কয়েকজন ছাত্রী। তাদেরকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তবুও এই প্রতিবাদ মিছিল বন্ধ হয়নি। একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী নিশা দাস, সুপর্ণা ধাড়া বলে, “ নৃশংস ভাবে ডাক্তার দিদিকে খুন করা হয়েছে। এখনও দোষীরা গ্রেফতার হয়নি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে এবং উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ চলছে। আমরাও সেই বিচারের দাবিতে পথে নেমেছি। আমাদের দিদির খুনিদের গ্রেফতার ও উপযুক্ত শাস্তি চাই।”
ক্যানিংয়ের পাশাপাশি এদিন বাসন্তীর পালবাড়ি এলাকার মানুষের উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও প্রায় সাত আটশো সাধারণ মানুষ আর জি কর কান্ডের প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন। এলাকার সাধারণ নারী পুরুষের পাশাপাশি স্কুল পড়ুয়ারাও এই প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হন। মিছিলের পাশাপাশি বাসন্তী রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও চলে বেশ কিছুক্ষন। এছাড়াও এদিন বাসন্তীর সোনাখালি, নতুনহাট সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হয় নাগরিক সমাজ।