নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৮ আগস্ট: ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। যাতে এই বিরল রক্তের গ্রুপের রোগীদের অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়।
রবিবার কৃষ্ণনগর বয়েজ ক্লাবের উদ্যোগে বিজয় কুমার উচ্চতর বালিকা বিদ্যালয়ে আয়োজিত স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আমি যারা এখানে রক্ত দিতে এসেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ রক্তদানের কোন বিকল্প নেই। আমরা যখন রক্তদান করি, তখন সেটা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করে। এটাই মূল লক্ষ্য। জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশের নেগেটিভ রক্তের গ্রুপ রয়েছে, যা খুবই বিরল। আমি যখনই রক্তদান শিবিরে অংশগ্রহণ করি, তখন নেগেটিভ রক্তের গ্রুপের কতজন লোকজন উপস্থিত রয়েছেন সেবিষয়ে খোঁজখবর নিই। তাই আমাদের অবশ্যই নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপের সংরক্ষণ রাখা সুনিশ্চিত করতে হবে, যাতে এই বিরল রক্তের গ্রুপের রোগীরা কোন ধরণের অসুবিধার সম্মুখীন না হন। রক্তদানকে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এটিকে আন্দোলনে পরিণত করা উচিত। যা ত্রিপুরায় নবজাগরণ বয়ে আনবে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সমাজে ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলতে ক্লাবগুলির ভূমিকার উপর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি ক্লাব সকলের জন্য। সমাজের সকল সদস্যের অবদান অপরিহার্য। একটি ক্লাবের উচিত একটি ইতিবাচক পরিবেশ প্রতিফলিত করা, যেখানে অধ্যাপক, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ থাকবেন। ক্লাবগুলিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়া উচিত মহিলাদেরও। কারণ বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে তারা স্ব স্ব এলাকা বা সমাজের প্রতিনিধিত্ব করবেন। পাশাপাশি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে রক্তের সঠিক মজুত এবং রক্তদান শিবিরের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার উপর গুরুত্ব তুলে ধরেন ডাঃ সাহা।
এই অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার সহ আয়োজক সংস্থার কর্মকর্তাগণ।
এদিকে, রাজ্য অতিথিশালায় অল ইন্ডিয়া সার্ভিস অফিসারদের উদ্যোগে আয়োজিত অপর একটি রক্তদান শিবিরে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে এমন একটি মহতি আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ডাঃ সাহা বলেন, আপনারা এধরণের সমাজ সেবামূলক কাজের মাধ্যমে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এর মাধ্যমে সারা রাজ্যে একটা শুভ বার্তা যাবে। রাজ্যের মানুষ আরো উদ্বুদ্ধ হবে। আপনারা সমাজের একটা ক্রিম। আমি অফিসারদের এধরণের কাজে নিয়োজিত হতে উৎসাহিত করি যা চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অফিসারগণ রাজ্যের ভবিষ্যত, যেহেতু তারা সমস্ত কাজের তদারকি করেন।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব জে কে সিনহা, রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অমিতাভ রঞ্জন সহ প্রশাসনের অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকগণ।
2024-08-18