টানা বর্ষণে বিপর্যয়, দক্ষিণ জেলা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত, মুহুরী ও লাওগাং নদী ফুলেফেঁপে রুদ্ররূপ নিচ্ছে, প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলায় প্রসাশন প্রস্তুত, জনগণকে আতঙ্কিত না হতে আবেদন মুখ্যমন্ত্রীর

আগরতলা, ২ আগস্ট: গত দুইদিন ধরে ত্রিপুরায় টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ফলে, দক্ষিণ জেলার বিলোনিয়া মহকুমাতে মুহুরী ও লাওগাং নদীর ফুলেফেঁপে রুদ্ররূপ নিচ্ছে। ভারী বর্ষণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি জমি, বাড়িঘর এবং রাস্তাঘাট। আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী বিকেল চারটা পর্যন্ত সর্বাধিক বৃষ্টিপাত বিলোনিয়ায় ২১৪ এমএম রেকর্ড করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত ভারী বর্ষণে ৬টি ঘর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজ সামাজিক মাধ্যমে এমনটাই বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা। সাথে তিনি যোগ করেন, ইতিমধ্যেই আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলা করতে প্রসাশন সব ধরণে প্রস্তুতি নিয়েছে। তাই জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন তিনি। 

প্রসঙ্গত, গত দুদিন ধরে চলছে মুষলধারে বৃষ্টি। আর এই ভারী বর্ষণের ফলে নাজেহাল জনজীবন। ব্যাপকভাবে ক্ষতি হয়েছে কৃষি জমি, মানুষের বাড়িঘর এবং রাস্তাঘাট। দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিলোনিয়া মহকুমার বিভিন্ন স্থানে, বিলোনিয়া মহকুমার পূর্ব কলাবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন উত্তর কলাবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা রতন লাল দাসের বাড়িতে ঘরের উপর উঁচু টিলা থেকে মাটির ধ্বস পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারটি এখন সরকারি সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন। এছাড়া মহকুমার বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় মাটির ধস এবং গাছ পড়ে মানুষের বাড়ি ঘরে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে।

অন্যদিকে বিলোনিয়া মহকুমার ছয়ঘরিয়া চৌদ্দ দেবতা মন্দিরের সামনে রাস্তায় বড় ধ্বস পরে প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে যানবাহন আটকে থাকতে হয়েছে, এর ফলে রোগী নিয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্স গাড়িও আটকে পড়ে রাস্তায়। এরমধ্যে বিলোনিয়া মুহুরী নদীর জল স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে বিলোনিয়া শহর এলাকার জনগণ। যেকোন সময় মুহুরী নদীর জল প্রবেশ করতে পারে বিলোনিয়া শহরে। এর ফলে গোটা শহর জলমগ্ন হয়ে পরবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আজ সামাজিক মাধ্যমে একথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা বলেন,  ভারী বৃষ্টিপাতে দক্ষিণ জেলার বিলোনিয়া মহকুমা ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।যেখানে সাব্রুম এবং বাগাফাতে যথাক্রমে ১৫২ মিমি এবং ৮০ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।  

তিনি বলেন, ভারি বর্ষণে মুহুরী ও লাওগাং নদীতে জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে, মুহুরীর জলস্তর ২৬.৬০ মিটার, যা ২৩.৪০ মিটারের প্রত্যাশিত বিপদসীমার ওপর উঠে গেছে। এদিকে লাওগাং নদী ২৪.৫০  মিটার, যা ২৪ মিটার বিপদসীমার কাছাকাছি। 

তিনি আরও বলেন, জনগণকে আতঙ্কিত না হতে। কারণ, ইতিমধ্যেই আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সতর্কতামূলক স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য মাইকিং শুরু হয়েছে। বিলোনিশা ও শান্তিরবাজার শহর এলাকা থেকে পরিবারগুলোকে স্থানান্তরের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, টানা বর্ষণে গাছ পড়ে যাওয়ায় অবরুদ্ধ রাস্তাগুলো পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে। তাছাড়া, আপদা মিত্রর, সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ার্স, টিএসআর, টিএসইসিএল কর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।