সরকারি বিভিন্ন সার্টিফিকেট বানাতে গিয়ে হয়রানির শিকার ছাত্রছাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কাঞ্চনপুর, ১১ জুলাই: উত্তর ত্রিপুরা জেলার কাঞ্চনপুর মহকুমায় ইনকাম সার্টিফিকেট এবং পিআরটিসি সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীসহ সাধারণ মানুষজন। সার্টিফিকেট প্রদান প্রক্রিয়া সরলীকরণ করার দাবি উঠেছে।

ইনকাম সার্টিফিকেট ও পিআরটিসি সার্টিফিকেট পেতে গিয়ে হয়রানির শিকার  হচ্ছেন কাঞ্চনপুরের সাধারণ নাগরিক। কাঞ্চনপুরের মহকুমা শাসক আচমকা ইনকাম সার্টিফিকেট সহ অন্যান্য সার্টিফিকেটের জন্য আবেদনপত্র অনলাইনে জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি করায় এই জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। মহকুমা শাসকের এই নতুন নির্দেশের ফলে সব থেকে বেশি বিপদে পড়েছেন বর্তমানে স্কুল কলেজে ছাত্রছাত্রীরা।

কারণ নতুন শিক্ষাবর্ষে যে সকল ছাত্রছাত্রী নতুন স্কুল কলেজে ভর্তি হতে চাইছেন তাদের ভর্তির আবেদনপত্রের সঙ্গে ইনকাম সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। যার ফলে স্কুল কলেজ ভর্তির জন্য আবেদনকারী ছাত্র ছাত্রীদের জন্য ইনকাম সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে ছুটে যেতে হচ্ছে মহকুমা শাসকের অফিসে। কিন্তু মহকুমা অফিস থেকে জানানো হচ্ছে , নতুন নির্দেশ অনুযায়ী ইনকাম সার্টিফিকেট ,পিআরটিসি সার্টিফিকেট ,ও বিভিন্ন কাষ্ট সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট তহসিলে আবেদন করতে হবে।

নিয়ম অনুযায়ী তফসিল অফিস সত্যতা যাচাই করে আরআই অফিসে আবেদনটি পাঠানো হয়। একই বিষয়ে আরআই ভেরিফিকেশন করে মহকুমা শাসকের ডিসিএম কক্ষে পাঠানো হয়।ডিসিএম সমস্ত বিষয় ক্ষতিয়ে দেখে অনুমতি দেওয়ার পর মহকুমা শাসকের  অফিস থেকে সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। পরে আবেদনকারী তফসিল অফিস না মহকুমা শাসকের অফিস থেকে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন ।

আবেদনকারীর তফসিল অফিসে আবেদনের পর থেকে সার্টিফিকেট ইস্যু পর্যন্ত সমস্ত বিষয়টি অনলাইনে সম্পন্ন করা হচ্ছে । কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে অনলাইনে আবেদনের প্রক্রিয়া চালু করায় সম্পুর্ন প্রক্রিয়াটি জটিল হচ্ছে ও তাতে সময়ও বেশি লেগে যাচ্ছে। কিন্তু স্কুল কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিক ইনকাম সার্টিফিকেট জমা করতে হচ্ছে। যার ফলে বিপাকে পড়েছেন বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ।

কেননা ইনকাম সার্টিফিকেট এতই জরুরি অনেক সময় একদিনের মধ্যেই সার্টিফিকেট জমা করতে হয়। দেখা যাচ্ছে নতুন নিয়ম সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একদিনের মধ্য সার্টিফিকেট ইস্যু করা কার্যত অসম্ভব। এছাড়া গ্ৰামীন সাধারণ নাগরিকরা অনলাইনে আবেদন করতে পারেন না। যার ফলে আবেদন করতে গিয়েও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে আমজনতাকে।

সাধারণ প্রশাসনিকভাবে জনদুর্ভোগ এড়ানোর জন্য নতুন নির্দেশ জারি করা হয়। কিন্তু কাঞ্চনপুর মহকুমা শাসকের নতুন প্রক্রিয়া চালু করায় জনদুর্ভোগ আর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া আবেদনের পর কোন টেবিলে  কোন  সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে আবেদনকারীকে জানানো যাচ্ছে না। আর এতে আরো বেশি বিপাকে পড়ছেন আমজনতা।

আবার অনেক সময় আবেদনকারী অফিস গিয়ে যোগাযোগ করতে চাইলেও অফিস বাবুরা সঠিকভাবে ব্যবহার করেন না। ফলে দিনের পর দিন জনদুর্ভোগ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে এক আবেদনকারী একাধিকবার কাঞ্চনপুর মহকুমা শাসকের অফিসে গিয়ে ও বড়ো বাবুদের দেখা পাননি। ফলে জনদুর্ভোগ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ ব্যাপারে কাঞ্চনপুর মহকুমা শাসকের অফিসে কর্মরত ডিসিএম বিদ্যাসাগর জমাতিয়াকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন অনলাইনে আবেদন করতে গিয়ে কিছু সমস্যা হচ্ছে ঠিকই তবে স্বচ্ছতার সঙ্গে, এ বিষয়গুলো দেখা হচ্ছে। চেষ্টা হচ্ছে আরো দ্রুত কিভাবে আবেদনকারীকে সার্টিফিকেট প্রদান করা যায় সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে মহকুমা শাসকের অফিস।